আল-আকসা ইমামের গ্রেপ্তার ও উত্তেজনা বৃদ্ধি

পবিত্র আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মুহাম্মদ আলী আল-আব্বাসিকে ইসরায়েলি পুলিশ গত সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার স্থান ছিল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যদিও ইমামকে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনও গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা তার বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি ব্যবস্থা প্রকাশ করেনি।

স্থানীয় অধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আল-আকসা মসজিদের ইমাম এবং খতিবদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত করা, কঠোর পুলিশি পাহারা এবং বিভিন্ন অজুহাতে প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি কমানো হয়েছে। এর ফলে, কিছু ইহুদি বসতি স্থাপনকারী মসজিদের চত্বরে প্রবেশের হার বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।

জেরুজালেমের ওল্ড সিটি এবং আল-আকসা প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও অধিকারকর্মীদের গ্রেপ্তার, তাদের এলাকা ত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা এখন দৈনন্দিন সংবাদ শিরোনামে পরিণত হয়েছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান শুরু হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রমজানের প্রথম তারাবি নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে হাজির হন হাজারো ফিলিস্তিনি মুসল্লি।

প্রার্থনা ও নিরাপত্তার দৃশ্যপট

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নামাজ চলাকালীন মসজিদের প্রার্থনালয় এবং খোলা প্রাঙ্গণ মুসল্লি দ্বারা সম্পূর্ণ ভর্তি ছিল। খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনে নামাজ আদায় করেন। অনলাইনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, ইসরায়েলি পুলিশ প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত থেকে মসজিদ চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা তদারকি করছে।

তথ্য অনুযায়ী, নামাজ চলাকালীন তরুণ ফিলিস্তিনিদের মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে বিশেষ সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়। যদিও এই বিধিনিষেধ প্রার্থনার স্বাভাবিক পরিবেশ কিছুটা ব্যাহত করেছে, মুসল্লিরা তাদের ধর্মীয় আচরণ বজায় রেখেছেন।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক প্রধান ঘটনাসমূহ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

তারিখঘটনাস্থানমন্তব্য
১৭ ফেব্রুয়ারিরমজানের প্রথম তারাবি নামাজআল-আকসা মসজিদ, জেরুজালেমহাজারো মুসল্লি অংশগ্রহণ
১৭ ফেব্রুয়ারিইসরায়েলি পুলিশ নামাজ চলাকালীন নিরাপত্তা তদারকিমসজিদ প্রাঙ্গণপ্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত
সোমবার, ফেব্রুয়ারিইমাম শেখ মুহাম্মদ আলী আল-আব্বাসি গ্রেপ্তারআল-আকসা প্রাঙ্গণগ্রেপ্তারের কারণ জানানো হয়নি
চলমানমুসল্লির প্রবেশ সীমিত ও খতিবদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপপ্রাঙ্গণ ও ওল্ড সিটিধর্মীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনার ফলে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন উত্তেজনার নতুন মাত্রা সৃষ্টি হতে পারে। আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণ, যা মুসলিম সমাজের জন্য অত্যন্ত পবিত্র স্থান, সেখানে পুলিশি অভিযান ও ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্কতা ব্যক্ত করা হচ্ছে।

মুসল্লিরা এবং ধর্মীয় নেতারা নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।