আসন্ন শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় এক মুখোমুখি বৈঠকে মিলিত হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ভূরাজনৈতিক নানা ইস্যু।
উল্লেখ্য, আজকের আলাস্কা এক সময় ছিল রাশিয়ার মালিকানাধীন অঞ্চল। ১৮৬৭ সালে মাত্র ৭.২ মিলিয়ন ডলারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই বিশাল ভূখণ্ড বিক্রি করে দেয় রাশিয়া। সে সময় এই চুক্তিকে মার্কিন রাজনীতিতে ‘সেওয়ার্ডের বোকামি’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল, তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সেওয়ার্ডের নামে।
আলাস্কা এখনো রুশ প্রভাবের নানা নিদর্শন বহন করে চলেছে। রাজ্যের উপকূলজুড়ে ছড়িয়ে আছে পেঁয়াজ-গম্বুজবিশিষ্ট ৩৫টির বেশি অর্থোডক্স চার্চ। রাশিয়ান-আমেরিকান কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর অর্থোডক্স চার্চ এখানে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে এবং এখনো তা টিকে আছে। কোডিয়াক দ্বীপে একটি সেমিনারি পর্যন্ত রয়েছে।
রুশ অভিযাত্রী ভিটাস বেরিং ১৭২৮ সালে বেরিং প্রণালী অতিক্রম করে প্রথমবারের মতো এশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে ব্যবধান নির্ধারণ করেন। আজকের ‘বেরিং স্ট্রেইট’ অঞ্চলটি তখন থেকেই পশ্চিমা বিশ্বে আলাস্কার অস্তিত্বকে সামনে নিয়ে আসে, যদিও সেখানকার আদিবাসীরা বহু সহস্র বছর ধরেই সেখানে বসবাস করে আসছে।
এ অঞ্চলের রুশ উত্তরাধিকার শুধু স্থাপত্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গ্রামীণ স্কুলে এখনো রুশ ভাষা শেখানো হয়, যেটি ১৯৬০-এর দশকে গঠিত ‘ওল্ড বিলিভার্স’ নামক একটি রুশ অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত।
২০০৮ সালে আলাস্কার তৎকালীন গভর্নর ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সারা প্যালিন বলেছিলেন, “রাশিয়া আমাদের প্রতিবেশী, এবং আপনি আলাস্কার একটি দ্বীপ থেকে রাশিয়াকে দেখতে পারবেন।” যদিও মূল ভূখণ্ড থেকে রাশিয়া দেখা না গেলেও, বেরিং প্রণালীর দুই প্রান্তে অবস্থিত আমেরিকান লিটল ডায়োমেড ও রাশিয়ার বিগ ডায়োমেড দ্বীপ মাত্র ২.৫ মাইল ব্যবধানে মুখোমুখি অবস্থিত।
প্রতিবছরই মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে, তারা রুশ বিমানগুলোকে আমেরিকার আকাশসীমার কাছাকাছি আসার সময় বাধা দিয়ে থাকে। তা সত্ত্বেও, পুতিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাশিয়ার আলাস্কা পুনর্দখলের কোনো আগ্রহ নেই। ২০১৪ সালে তিনি বলেছিলেন, “আলাস্কা খুবই ঠান্ডা।”
