আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে প্রথম জয় তুলে নিয়ে সুপার এইট প্রতিযোগিতায় খেলার আশা বাঁচিয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে ধারাবাহিক হারের পর রশিদ খান নেতৃত্বাধীন দল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপের শুরুটা নিয়ন্ত্রণে আনে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামা আরব আমিরাতের দল নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬০ রান করে। তাদের ইনিংসে শোয়াইব খান ৬৮ এবং আলিশান শরাফু ৪০ রান করেন। দুজনের এই জুটিতে আসে ৮৪ রান। আফগান বোলারদের মধ্যে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন। অধিনায়ক রশিদ খান ২৪ রান খরচ করে ১ উইকেট নেন। ম্যাচের বিশেষ ঘটনা হিসেবে উল্লেখযোগ্য, ১৬তম ওভারে মুহাম্মাদ আফরান যখন উইকেট নেন, তখন এটি তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৭০০তম উইকেট হিসেবে রেকর্ড হয়, যা তাকে বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়ে তোলে।
আফগানিস্তানের জয় যাত্রা
১৬৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান দ্বিতীয় বলেই হারায় রহমানউল্লাহ গুরবাজ এর উইকেট। তবে ওপেনার ইবরাহিম জাদরান ৪১ বলে ৫৩ রান করে দলের ভিত্তি গড়ে দেন। ওমরজাই অপরাজিত থাকেন ২১ বলে ৪০ রান করে। জাদরান ও ওমরজাইয়ের দৃঢ় পারফরম্যান্স আফগানিস্তানকে সহজেই জয় এনে দেয়।
ম্যাচ পরিসংখ্যান
| দলের নাম | ম্যাচ | জয় | হার | পয়েন্ট | রান/ওভারের বিবরণ |
|---|---|---|---|---|---|
| আফগানিস্তান | ৩ | ১ | ২ | ২ | ১৬৩/৫ (২০ ওভার) |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | ৩ | ০ | ৩ | ২ | ১৬০/৯ (২০ ওভার) |
| নিউজিল্যান্ড | ৩ | ২ | ১ | ৪ | – |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | ৩ | ৩ | ০ | ৬ | – |
এই জয়ের ফলে আফগানিস্তানের সুপার এইটে খেলার সম্ভাবনা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। তিন ম্যাচে দুই পয়েন্ট নিয়ে তারা এখনও প্রতিযোগিতায় টিকে আছে। একই পয়েন্টে অবস্থান করছে আরব আমিরাতও। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ পয়েন্ট অর্জন করেছে।
রশিদ খান ম্যাচের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বলেন, “আমাদের প্রথম জয় দলের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। খেলোয়াড়রা কঠোর পরিশ্রম করছে এবং সুপার এইটে পৌঁছানোর জন্য আমাদের আরও ম্যাচে ভালো খেলতে হবে।”
আফগানিস্তানের এই জয় কেবল দলের জন্যই নয়, সমর্থক ও ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে রশিদ খানের নেতৃত্বে দলের দমবন্ধানো লড়াই এবং বোলিংয়ের পারফরম্যান্স বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছে।
