আজ ধোঁয়া হচ্ছে পবিত্র কাবা। প্রতি বছর ব্যাপক উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে পবিত্র কাবাঘর ধোঁয়ার কর্মসূচি পালিত হয়। এ কাজে সৌদি আরবের বাদশাহর পক্ষ থেকে মক্কার গভর্নর ও অন্য প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অন্যবারের মতো আজ বুধবার ফজরের নামাজের পর কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এদিকে পবিত্র কাবাঘর ধোঁয়া সংশ্লিষ্ট সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে মক্কা ও মদিনার জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগ।
জেনারেল প্রেসিডেন্সির তত্ত্বাবধানে শায়খ ড. আবদুর রহমান আস সুদাইস এ কর্মসূচির নেতৃত্বে রয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল, কাবাঘরের দ্বাররক্ষী ও চাবির বাহক শায়খ সালেহ আল-শায়বা। এ ছাড়া মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতদের এ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আজ ধোঁয়া হচ্ছে পবিত্র কাবা
পবিত্র কাবাঘর ধোঁয়ার কাজে বিভিন্ন দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গোলাপজল, উদ, ইতার (পারফিউম) মিশ্রিত বিশেষ তরল (লিকুইড) পদার্থ। উন্নত মানসম্পন্ন এ উপাদানগুলোর দামও খুব চড়া। ধোঁয়ার আনুষ্ঠানিকতার আগেই এসব সামগ্রী প্রস্তুত করা হয়।
মূলত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় থেকেই পবিত্র কাবাঘর ধোঁয়ার ঐতিহ্য চলে আসছে। অষ্টম হিজরিতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের পর পবিত্র কাবাঘর ধৌত করেন। ইসলামের সম্মানিত খলিফারাও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এ কাজ করেছেন। আজ পর্যন্ত এটি চালু রয়েছে। আগে বছরে দুবার পবিত্র কাবা ঘর ধোঁয়া হতো। প্রথমবার মহররম মাসে, দ্বিতীয়বার রমজান মাস শুরুর আগে।

ধোঁয়ার সময় পবিত্র কাবাকে ঘিরে রাখে স্পেশাল ইমারর্জেন্সি ফোর্স ও হজ সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা। তখন দূর দিয়ে তাওয়াফ করেন মুসল্লিরা। পবিত্র কাবা ধোঁয়ার পর এ কাজে নিয়োজিতরা হাজরে আসওয়াদে (কালো পাথর) চুম্বন শেষে কাবা তাওয়াফ ও মাকামে ইব্রাহিমে নামাজ আদায় করেন। পবিত্র কাবা ধোঁয়াকে সৌদি সরকার বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এটা একটা উৎসবও বটে। উপস্থিত তাওয়াফকারীরা এ সময় আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে কাজে উৎসাহ দিয়ে থাকেন।
