আওয়ামী লীগ ও জামায়াত–অধ্যুষিত জেলা মন্ত্রিত্বে বাদ

নতুন সরকার গঠনের পর দেশের ২৫টি জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন এই মন্ত্রিসভা ঘোষণায় বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত নোয়াখালী, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গা জেলা সম্পূর্ণ বাদ পড়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ–প্রধান জেলাগুলোও কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পাচ্ছে না। বিশেষভাবে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য।

প্রধান শহর ও অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য

ঢাকা জেলার ২০টি আসনের মধ্যে ১৫টিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে মন্ত্রী হয়েছেন শেখ রবিউল আলম, যিনি সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে ঢাকার আশপাশের মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ হয়নি।

ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে একজন করে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পেয়েছেন। ফরিদপুর থেকে শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং রাজবাড়ী থেকে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। যশোরের একটি আসনে জয়ী অনিন্দ ইসলামও প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।

উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবস্থা

উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বিএনপি তুলনামূলকভাবে কম আসনে জয়ী হয়েছে। রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ১৩টি, জামায়াত ১৭টি, এবং এনসিপি ২টি। তবে মন্ত্রিসভায় এই অঞ্চলের আধিপত্য দেখা গেছে।

জেলামোট আসনবিএনপি জয়ীমন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রী
ঠাকুরগাঁওমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
দিনাজপুরএ জেড এম জাহিদ হোসেন
লালমনিরহাটআসাদুল হাবিব দুলু
পঞ্চগড়ফরহাদ হোসেন আজাদ
সিরাজগঞ্জএম এ মুহিত
রাজশাহীমিজানুর রহমান মিনু
বগুড়ামীর শাহে আলম
নাটোরফারজানা শারমিন
জয়পুরহাটআবদুল বারী

কুমিল্লা ও নোয়াখালী

কুমিল্লা জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিএনপি জয়ী হয়েছে। এই জেলার তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন: মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), জাকারিয়া তাহের ও শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। চাঁদপুর থেকে আ ন ম এহসানুল হক মিলন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।

নোয়াখালী জেলার কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পাওয়া যায়নি। তবে ফেনী থেকে আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং লক্ষ্মীপুর থেকে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্ত্রী হয়েছেন।

রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাব

এই মন্ত্রিসভায় বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায় যে, অনেক মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের বাবা অতীতে বিএনপির মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। যেমন অনিন্দ ইসলাম, ফারজানা শারমিন ও শামা ওবায়েদ ইসলাম। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন মুখদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেমন ঢাকা-১৬ থেকে নির্বাচিত আমিনুল হক।

সারণিতে নির্বাচনী ফলাফল ও মন্ত্রিত্ব

অঞ্চলজেলাআসন সংখ্যাজয়ীমন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী
উত্তরবঙ্গরংপুর বিভাগ৩৩বিএনপি ১৩, জামায়াত ১৭, এনসিপি ২মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আসাদুল হাবিব দুলু, ফরহাদ হোসেন আজাদ
উত্তরবঙ্গরাজশাহী বিভাগ৩৯বিএনপি ২৮, জামায়াত ১১মিজানুর রহমান মিনু, ইকবাল হাসান মাহমুদ, মীর শাহে আলম, ফারজানা শারমিন, আবদুল বারী, এম এ মুহিত
দক্ষিণ-পশ্চিমযশোরবিএনপি ১অনিন্দ ইসলাম (প্রতিমন্ত্রী)
দক্ষিণ-পশ্চিমখুলনাবিএনপি ৪
মধ্যাঞ্চলঢাকা২০বিএনপি ১৫শেখ রবিউল আলম (পূর্ণ মন্ত্রী), চারজন প্রতিমন্ত্রী
মধ্যাঞ্চলফরিদপুরবিএনপি ২শামা ওবায়েদ ইসলাম (প্রতিমন্ত্রী)
মধ্যাঞ্চলরাজবাড়ীবিএনপি ২আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (প্রতিমন্ত্রী)

উপসংহার

এবারের মন্ত্রিসভা রাজনৈতিক ও ভূগোলিকভাবে বৈচিত্র্যময় হলেও অনেক ঐতিহ্যবাহী জেলা ও বিএনপির ঘাঁটি থেকে নেতারা বাদ পড়েছেন। বিশেষভাবে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত–অধ্যুষিত জেলা, ঢাকা-পরিষদ সংলগ্ন অঞ্চল এবং নোয়াখালীকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর ও মধ্যবঙ্গের কিছু জেলা মন্ত্রিত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রীরা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কর্তৃক মঙ্গলবার বিকেলে শপথ গ্রহণ করেছেন।

মোটামুটি দেখা যায়, এই মন্ত্রিসভা কৌশলগতভাবে রাজনৈতিক ভারসাম্য, পারিবারিক প্রভাব এবং নির্বাচনী ফলাফলের সমন্বয়কে কেন্দ্র করে গঠন করা হয়েছে।