আইসিসি টি-টোয়েন্টিতে নতুন দর্শক রেকর্ড

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি ম্যাচটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। আইসিসির অফিসিয়াল ডিজিটাল ও ব্রডকাস্ট পার্টনার রিলায়েন্স জিওস্টার জানিয়েছে, এই ম্যাচে ১৬ কোটি ৩০ লাখ দর্শক অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। এটি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ডিজিটাল দর্শকসংখ্যা।

পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ছিল ২০২৪ সালের ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা এবারের ম্যাচে ৫৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষভাবে, এটি মোবাইল ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে কোনও আইসিসি লিগ ম্যাচে সর্বাধিক দর্শকসংখ্যা।

দর্শকরা কেবল সংযুক্ত থাকেনি না, ওয়াচ-টাইমও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। মোট ২০০০ কোটি মিনিট দর্শক সময় খেলার প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে, যা আগের আসরের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি। এই তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের প্রতি ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ এখনও অটুট এবং আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

ম্যাচ শুরুর আগে কিছু নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। পাকিস্তান প্রাথমিকভাবে ম্যাচ খেলার জন্য অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ ও আইসিসির তীব্র সমালোচনা করার পর। তবে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধে পাকিস্তান তাদের বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে। ম্যাচটি কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হয় এবং পাকিস্তান ৬১ রানে হেরে যায়।

নিচের টেবিলে ম্যাচের প্রধান পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
দর্শকসংখ্যা (ডিজিটাল)১৬ কোটি ৩০ লাখ
পূর্ববর্তী রেকর্ড২০২৪ সালের ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ফাইনাল
দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধি (%)৫৬%
মোট ওয়াচ-টাইম২০০০ কোটি মিনিট
ওয়াচ-টাইম বৃদ্ধি (%)৪২%
ম্যাচের ফলাফলভারত জয়ী, পাকিস্তান ৬১ রানে হারা
ম্যাচের অবস্থানকলম্বো, শ্রীলঙ্কা

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রেকর্ড কেবল ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাই নয়, বরং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্ষমতা ও দর্শকসংযোগের নতুন দিগন্তকেও নির্দেশ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও লাইভ স্ট্রিমিং-এর মাধ্যমে দর্শকরা খেলার সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত হতে পারছে।

দূরদর্শীরা মনে করছেন, এই রেকর্ড আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের প্রভাবকে আরও দৃঢ় করবে। ভবিষ্যতে ডিজিটাল দর্শকসংখ্যা ও ওয়াচ-টাইম আরও বাড়তে পারে, যা বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের অনলাইন সম্প্রচারের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে।

এই রেকর্ড প্রমাণ করছে যে, ক্রিকেটের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচগুলোর প্রতি দর্শক আকর্ষণ কখনো কমে না এবং ডিজিটাল মাধ্যম ক্রিকেটভক্তদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।