ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে পরাজয়ের পর কোচ পিটার বাটলারের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে হতাশা, উদ্বেগ এবং লুকানো ক্ষোভ। মাঠের ফলাফলের বাইরে তিনি যেভাবে দলের ভেতরের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেছেন, তা বর্তমান নারী ফুটবল দলের পরিবেশ নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।
বাটলারের দাবি, দলের আশেপাশে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে, যারা ইচ্ছে করে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি করছে। তিনি বলেন, “যারা বাইরে থেকে সমস্যা তৈরি করে, তাদের দায় আমি নিচ্ছি না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সেই দীর্ঘদিনের অভিযোগ—দলে গ্রুপিং ও বিদ্রোহী উপাদানের উপস্থিতি—আবার সামনে নিয়ে আসেন।
মাঠের দিক থেকে দেখলে বাংলাদেশ ম্যাচে মোটামুটি ছন্দে খেললেও রূপনা চাকমার ভুলে গোল হজম করে বসে। হাইলাইন ডিফেন্সে খেলায় ঝুঁকি ছিলই, আর মালয়েশিয়া সেটি কাজে লাগিয়েছে। তবে বাটলার বলেন, “রূপনা ভুল করেছে, কিন্তু এটা মানবিক ভুল। সে আমাদের অসংখ্যবার বাঁচিয়েছে।” এই মন্তব্যে তিনি তার খেলোয়াড়কে রক্ষা করতে চাইলেও মূল সমস্যাটি অন্য জায়গায়—দলীয় অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ।
এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির সিরিজ হওয়ায় বাটলার ফলাফলের চেয়ে খেলোয়াড়দের মানসিক স্থিতি ও পুরো দলের পরিবেশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, তরুণেরা ঠিক পথেই এগোচ্ছিলেন, কিন্তু কিছু নেতিবাচক চরিত্র পুরো প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
দলের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সরে দাঁড়াতেও প্রস্তুত। তাঁর কথায়, “যদি সরে যাওয়া দলকে সাহায্য করে, আমি রাজি।” এই বক্তব্য শুধু কোচের হতাশাই প্রকাশ করে না, বরং দলের ভেতরে চলমান গোলমালের গভীরতাও তুলে ধরে।
ম্যাচ শেষে বাটলারের শেষ কথাটি ছিল খেলোয়াড়দের উদ্দেশে—“নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখো, সঠিক কাজ করে যাও।” যেন বিদ্রোহের মাঝেই আশার সুর বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা।
