যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার ভাঙ্গাগেট এলাকায় অবস্থিত জার্বান ফাইবার্স লিমিটেড—যা স্থানীয়ভাবে নওয়াপাড়া জুট মিল নামে পরিচিত—এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো মিল প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে, এতে উৎপাদন ব্যবস্থার বড় অংশ, কাঁচামাল ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিল্প প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পাটজাত পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত এবং অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এম এ রব ও জার্মান নাগরিক থমাস ব্রেসলার-এর যৌথ মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর নওয়াপাড়া স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। স্থানীয় শ্রমিকদের সহায়তায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পুরোপুরি নির্বাপণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময় লাগে।
মিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হামিদুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে একটি মেশিন থেকে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্টসার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। তিনি বলেন, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাটের গুদাম ও উৎপাদন লাইনের বিভিন্ন অংশে। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকার বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত হিসাব পরে নির্ধারণ করা হবে।
ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বড় ধরনের ব্যাঘাতের মুখে পড়েছে। পাটজাত কাঁচামাল, মেশিনারি ও গুদামজাত পণ্যের একটি বড় অংশ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | ভাঙ্গাগেট, অভয়নগর, যশোর |
| প্রতিষ্ঠান | জার্বান ফাইবার্স লিমিটেড (নওয়াপাড়া জুট মিল) |
| সময় | ৬ এপ্রিল, রাত আনুমানিক ২টা |
| সম্ভাব্য কারণ | বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট |
| নিয়ন্ত্রণে সময় | প্রায় ১ ঘণ্টা, সম্পূর্ণ নির্বাপণ সকাল ৮টায় |
| ক্ষয়ক্ষতি | আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার বেশি (প্রাথমিক হিসাব) |
| হতাহত | কোনো হতাহতের ঘটনা নেই |
স্থানীয় শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে শিল্প কারখানায় নিয়মিত বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা পরিদর্শন, অগ্নি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। বিশেষ করে পাট ও তুলার মতো দাহ্য কাঁচামাল সংরক্ষণকারী শিল্পগুলোতে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের পদক্ষেপে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
