টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে ভারতের সামনে এখন কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। আজ চেন্নাইয়ের ঐতিহাসিক এম. এ. চিদাম্বরম স্টেডিয়াম-এ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে সেই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কাগজে-কলমে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় শিবিরে রয়েছে এক অদৃশ্য কিন্তু গুরুতর আতঙ্ক—অফ স্পিন।
প্রথম দৃষ্টিতে জিম্বাবুয়ের প্রধান হুমকি মনে হতে পারে পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি, যিনি সুপার এইট পর্বে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১১ উইকেট নিয়েছেন। তবে পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের জন্য আসল বিপদ লুকিয়ে আছে অফ স্পিনে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা স্পিন খেলায় পারদর্শী হলেও এবারের টুর্নামেন্টে সেই চিত্র একেবারেই ভিন্ন।
ভারত এ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে একটি হেরেছে, এবং এই ম্যাচগুলোতেই স্পষ্ট হয়েছে অফ স্পিনের বিরুদ্ধে তাদের দুর্বলতা। দলটি পেসারদের বিপক্ষে ১৮টি এবং স্পিনারদের বিপক্ষে ১৯টি উইকেট হারিয়েছে। এর মধ্যে ১২টি উইকেটই এসেছে অফ স্পিনারদের বলে—যা উদ্বেগজনক।
ভারতের উইকেট হারানোর পরিসংখ্যান
| বোলিং ধরন | মোট উইকেট | অফ স্পিনারদের অবদান |
|---|---|---|
| পেস | ১৮ | — |
| স্পিন | ১৯ | ১২ |
ভারতের স্কোয়াডে ১৬ জনের মধ্যে ৯ জন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। বিভিন্ন ম্যাচে একাদশে ৬-৭ জন বাঁহাতি থাকার কারণে প্রতিপক্ষ অধিনায়করা কৌশলগতভাবে ডানহাতি অফ স্পিনারদের ব্যবহার করছেন। এই ‘ম্যাচ-আপ’ কৌশল ভারতের বিপক্ষে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস একাই অফ স্পিনে ৪টি উইকেট নিয়েছেন, আর পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব পেয়েছেন ৩টি। বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে ভারতের দুর্বলতা চোখে পড়ার মতো—১২টির মধ্যে ৪টি উইকেট এসেছে এই সময়ে। ওপেনার অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষান দুবার করে আউট হয়েছেন অফ স্পিনে।
শুধু ওপেনিং নয়, মিডল অর্ডারও সমস্যায়। ১০২ বল খেলে তারা গড়ে ওভারপ্রতি মাত্র ৬.২৩ রান তুলতে পেরেছে অফ স্পিনের বিরুদ্ধে, যা টি-টোয়েন্টি মানদণ্ডে বেশ কম।
জিম্বাবুয়ে দলে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা নিজেই একজন দক্ষ অফ স্পিনার। তাঁর সঙ্গে আছেন ব্রায়ান বেনেট ও টনি মানইয়ঙ্গা, যারা প্রয়োজনে অফ স্পিন করতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের বাঁহাতি ব্যাটিং লাইনআপকে লক্ষ্য করে রাজা পাওয়ার প্লেতেই একাধিক ওভার করতে পারেন।
চেন্নাইয়ের উইকেট ঐতিহ্যগতভাবে স্পিন সহায়ক হলেও এবারের টুর্নামেন্টে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা গেছে। এখানে স্পিনারদের স্ট্রাইক রেট ২২.৩, যা তুলনামূলকভাবে দুর্বল, এবং গড় ৩০.২৩। তবুও ভারতের ব্যাটসম্যানদের মানসিক দুর্বলতা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে।
এই দুর্বলতা কাটাতে সূর্যকুমার যাদব ও তিলক বর্মা সম্প্রতি দীর্ঘ সময় ধরে স্পিনের বিপক্ষে বড় শট খেলার অনুশীলন করেছেন। ভারতের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক স্বীকার করেছেন, “আমরা জানি জিম্বাবুয়ে অফ স্পিন ব্যবহার করবে, এবং আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
সব মিলিয়ে, ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ কেবল প্রতিপক্ষ নয়—নিজেদের দুর্বলতার বিরুদ্ধেও লড়াই। এই লড়াইয়ে জিততে হলে অফ স্পিনের ধাঁধা ভাঙতেই হবে।
