অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ১,৬০৪ বার সড়ক অবরোধ হয়েছে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহে ১২৩টি ভিন্ন ভিন্ন সংগঠন মোট ১,৬০৪ বার সড়ক অবরোধ করেছে। রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এই বিপুল সংখ্যক অবরোধের ফলে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে অসহনীয় যানজটের শিকার হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “একটি সড়কের ছোট একটি অংশও যদি ব্লক হয়ে যায়, তবে তার প্রভাব পুরো ঢাকা শহরের ওপর পড়ে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ১,৬০৪টি অবরোধের ঘটনা রেকর্ড করেছি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

অবরোধের জন্য বিকল্প স্থানের প্রস্তাব

নাগরিকদের দাবি জানানোর অধিকারকে সম্মান জানিয়েও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে তিনি কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি অনুরোধ করেন যেন আন্দোলনকারীরা সড়কের পরিবর্তে নির্দিষ্ট খোলা জায়গায় তাদের কর্মসূচি পালন করেন।

উপদেষ্টার প্রস্তাবিত স্থানসমূহ:

  • ঢাকার বিভিন্ন বড় খেলার মাঠ।

  • সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

  • সুনির্দিষ্ট উন্মুক্ত চত্বর।

তিনি আরও যোগ করেন, “রাস্তা ব্লক না করে এসব নির্দিষ্ট স্থানে আন্দোলন বা জমায়েত করলে জনদুর্ভোগ অনেক কমবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হবে।”


একনজরে সড়ক অবরোধ ও সংশ্লিষ্ট তথ্যাবলি

অবরোধের পরিসংখ্যান ও জনদুর্ভোগের কারণগুলো নিচে সারণিবদ্ধ করা হলো:

বিষয়ের বিবরণপরিসংখ্যান/তথ্য
মোট অবরোধের সংখ্যা১,৬০৪ বার
সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সংখ্যা১২৩টি
মূল প্রভাবতীব্র যানজট ও নাগরিক ভোগান্তি
প্রধান বাধাএকটি সড়ক বন্ধ হলে পুরো শহর প্রভাবিত হয়
সরকারের প্রস্তাবসড়কের পরিবর্তে খোলা মাঠে কর্মসূচি পালন
বিকল্প ভেন্যুসোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও স্থানীয় খেলার মাঠ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সমন্বয়

কোর কমিটির বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যানজট নিরসনে কাজ করছে, তবে ঘন ঘন সড়ক অবরোধের কারণে তাদের প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশের সব স্তরের মানুষের কাছে এবং আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর কাছে অনুরোধ জানান যেন তারা জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেন।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আসা গোষ্ঠীগুলো যদি দায়িত্বশীল আচরণ না করে, তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই আহ্বান মূলত সাধারণ জনগণের চলাচল স্বাভাবিক রাখার একটি ঐকান্তিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।