ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম বুবলী তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে চলমান অনলাইন গুজব, কটূক্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ট্রলিংয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অপপ্রচার ও মানহানি বন্ধ না হলে তিনি আইনি পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন। বুবলীর ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মন্তব্য ও মিথ্যা তথ্য শুধু অসম্মানজনকই নয়, মানসিকভাবে গভীর ক্ষত তৈরি করছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। ওই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছেলে শেহজাদ খান বীর এবং চলচ্চিত্র তারকা শাকিব খান। সফরের কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। দেশে ফেরার পর আরও একটি ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো হয়—তিনি নাকি আবার মা হতে যাচ্ছেন। সম্পূর্ণ মিথ্যা হওয়া সত্ত্বেও এই দাবি দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং এর সঙ্গে যুক্ত হয় অশালীন মন্তব্য ও চরিত্রহননের প্রচেষ্টা।
সম্প্রতি রাজধানীতে একটি শোরুম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন বুবলী। ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় এবং অনলাইন ট্রলিংয়ের মাত্রা বাড়তে থাকে। অনুষ্ঠানস্থলে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, দীর্ঘদিন এসব উপেক্ষা করলেও আক্রমণের ব্যাপকতা এখন সহনীয় সীমা ছাড়িয়েছে। সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে আইনগত প্রতিকার নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বুবলী বলেন, নারী শিল্পীদের বিরুদ্ধে অনলাইন নিপীড়ন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুঃখজনকভাবে, অনেক ক্ষেত্রে নারীরাই নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্যে অংশ নিচ্ছেন। ধর্মীয় মূল্যবোধের অপব্যবহার করে মিথ্যা ভিডিও ও কুৎসা ছড়ানোর প্রবণতাকেও তিনি নৈতিক অবক্ষয়ের লক্ষণ হিসেবে আখ্যা দেন। ইসলামের দৃষ্টিতে পরনিন্দা ও অপবাদ গুরুতর অপরাধ—এই স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সামাজিক মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।
নতুন করে গুজব ছড়ানোর পেছনে একটি নৃত্যসংবলিত ভিডিওকে দায়ী করা হচ্ছে, যেখানে কিছু দর্শক তাঁর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে অনুমান করেন। পরবর্তী সময়ে ঢিলেঢালা পোশাকে উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করেও গুজব আরও জোরালো হয়। শুরুতে প্রতিক্রিয়া না জানালেও এখন বুবলী স্পষ্ট করেছেন, মানহানি চলতে থাকলে সাইবার অপরাধ দমন কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন।
একই আলোচনায় তিনি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগও নাকচ করেন। তাঁর মতে, দেশের মঙ্গল কামনা করতে রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হওয়া জরুরি নয়; একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেই তিনি স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ প্রত্যাশা করেন। পুরো ঘটনাপ্রবাহ বিনোদন অঙ্গনে ডিজিটাল নৈতিকতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক গুজব ও প্রতিক্রিয়ার সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গুজবের উৎস | জনসমাগমে নৃত্যের ভাইরাল ভিডিও |
| অভিযোগের ধরন | পুনরায় মাতৃত্বের মিথ্যা দাবি |
| জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া | ট্রলিং, কটূক্তি, অপপ্রচার |
| বুবলীর প্রাথমিক অবস্থান | ব্যক্তিগত বিষয়ে নীরবতা |
| বর্তমান অবস্থান | প্রকাশ্য প্রতিবাদ ও সতর্কবার্তা |
| সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ | সাইবার অপরাধ আইনে অভিযোগ |
সব মিলিয়ে, শবনম বুবলীর দৃঢ় অবস্থান অনলাইন পরিসরে শালীনতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পক্ষে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
