হিজড়াদের জ্বালায় অতিষ্ঠ নগরবাসী

হিজড়াদের জ্বালায় অতিষ্ঠ নগরবাসী। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় হিজড়াদের টাকা তুলতে দেখা যায়। যা নতুন কিছু নয় , নগরীর পুরনো চিত্র এটি বলা চলে। আগে মানুষ যা দিত, তা নিয়েই খুশি থাকত হিজড়ারা। কিন্তু ইদানীং তাদের আচরণ বদলে গেছে। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট যেখানে-সেখানে টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছে তারা। হিজড়াদের কেউ কেউ অভিযোগ করছে, রাজধানীতে অনেক নকল হিজড়া আছে, যাদের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিনা পরিশ্রমে অর্থ উপার্জন করা।

ট্রাফিক সংকেতে যানবাহন থামার পর হিজড়ারা সামনে এসে দাঁড়ালে যাত্রীদের কিছু করার থাকে না। যাত্রীদের মুখমুখি হতে হয় কিচছু অস্বাভাবিক মুহুর্তের । এমন সকল বিব্রতকর পরিস্থিতির স্বীকার শহরের প্রায় বেশির ভাগ বাসিন্দারা। প্রতিদিনই কোনো না কোনো সড়কে গেলেই দেখা যায় সিগন্যাল পড়লেই দৌড়ে এসে যাত্রীবাহী যানবাহনে জোর করে ওঠে গাড়িতে থাকা যাত্রীদের কাছে টাকা দাবি করছে, না দিলে যাত্রীদের অশ্লীল ভাষায় গালাগাল দিচ্ছে।

 

হিজড়াদের জ্বালায় অতিষ্ঠ নগরবাসী

হিজড়াদের জ্বালায় অতিষ্ঠ নগরবাসী

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালে একটি জরিপ করেছিল। ওই জরিপে হিজড়াদের সংখ্যা ১৫ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে হিজড়াদের দাবি, শুধু ঢাকা শহরেই কমপক্ষে ৩০ হাজার হিজড়া আছে। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার হিজড়াদের একটি পৃথক লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং, রাজলক্ষ্মী, জসিম উদ্দিন, বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে ঢাকা শহরের প্রায় বেশিরভাগ এলাকাতেই বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে হিজড়ারা মোটা অংকের অর্থ দাবি করে ঈদ, পূজা-পার্বণ, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি আনুষ্ঠানিক দিবসগুলোতে।চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অশালীন অঙ্গভঙ্গি অপ্রীতিকর বক্তব্য প্রদান করেন তারা।

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

উত্তরা সচেতন সমাজ মনে করেন তাদের টাকা-পয়সার প্রয়োজন আছে কিন্তু তাই বলে জোর করে অর্থ আদায় করা এটা চাঁদাবাজির শামিল। এই ব্যাপারে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাকিল বলেন, এদের অত্যাচারে যাত্রীবাহী পরিবহনে চলাটাই দুষ্কর।

বিষয়টি নিয়ে উত্তরা পূর্ব থানা, পশ্চিম থানা, এবং বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে তারা বলেন অভিযোগ পেলে অভিযোগের ভিত্তিতে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কবির নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন ১০ টাকা ২০ টাকা নিলে তো হয় ৫০ টাকার নোট দিলে সেটা নিয়েই চলে যান। মনে হয় তাদের নিজের জমানো টাকা। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ২ গ্রুপের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি ও হত্যার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটে থাকে।

 

রাজধানীতে ৯০ ভাগই নকল হিজড়া: পুুলিশ

 

তবে হিজড়ারা বলছে, টাকা না তুলে তারা নিরুপায়। তাদের আয়-রোজগারের কোনো সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছে। ইদানীং কিছু নকল হিজড়ার কথাও বলছে অনেকে, যারা মূলত পুরুষ কিন্তু হিজড়া সেজে টাকা আদায় করছে।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment