অটোরিকশা–ট্রাক সংঘর্ষে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পরীক্ষার্থী বহনকারী একটি গ্যাসচালিত অটোরিকশা ও একটি ভারী মালবাহী ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের এমসি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজী ছোট কলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের চলমান মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার পাঁচজন শিক্ষার্থী গ্যাসচালিত অটোরিকশায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছিল। পথে এমসি বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ভারী মালবাহী ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা আহত হয়।

আহত শিক্ষার্থীরা সবাই শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের এমসি বাজার এলাকার হাজী ছোট কলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। তাদের বাড়ি গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামে বলে জানা গেছে। আহতদের বয়স প্রত্যেকেরই ১৬ বছর।

আহত শিক্ষার্থীদের তালিকা

নামবয়সঅবস্থাপ্রাথমিক পদক্ষেপ
জাহিদ হাসান১৬গুরুতর আহতউন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর
আবির১৬গুরুতর আহতউন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর
সজীব১৬গুরুতর আহতউন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর
আহাদ১৬আহতপ্রাথমিক চিকিৎসা
পাপ্পু১৬আহতপ্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত তিনজন শিক্ষার্থীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকি দুইজনের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় তাদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো হয়, যেখানে তারা পরবর্তীতে আহত অবস্থাতেই পরীক্ষায় অংশ নেয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষার বিষয়ে সমন্বয় করা হয়। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন এবং শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

পরীক্ষাকেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব নিশ্চিত করেন যে, আহত দুই শিক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছে পরীক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছে, যদিও তারা শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় ছিল। পরীক্ষার পরিবেশে তাদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।

শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষার বিষয়টি প্রশাসন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এলাকাবাসী মহাসড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।