হবিগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ২

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুই বাসের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন যাত্রী গুরুত্বর আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কদমতলী এলাকার সাহিবাগ পয়েন্টে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুত গতিতে ওভারটেকিং করতে গিয়ে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে সিলেটগামী ‘এনা পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেট থেকে কুমিল্লা অভিমুখী ‘রয়েল কোচ’ পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন যাত্রী প্রাণ হারান।

খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।

হতাহতদের পরিচয়

নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা হলেন:

১. মো. হামিদ মিয়া (৬০): পিতা- মৃত আবুল খায়ের, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাহিবাগ এলাকার বাসিন্দা।

২. মো. রাজু মিয়া (৩৫): পিতা- মুকিত মিয়া, নবীগঞ্জ উপজেলার বড়চর গ্রামের বাসিন্দা।

৩. অপর একজনের (আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী পুরুষ) পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্যাবলি

শায়েস্তাগঞ্জের এই দুর্ঘটনার মূল তথ্যগুলো নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:

বিষয়ের বিবরণবিস্তারিত তথ্য
দুর্ঘটনার তারিখ ও সময়৪ নভেম্বর, ২০২৫; দুপুর ১:০০ টা
ঘটনাস্থলকদমতলী (সাহিবাগ এলাকা), ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক
জড়িত যানবাহনএনা পরিবহন ও রয়েল কোচ
নিহতের সংখ্যা০৩ জন (ঘটনাস্থলে ২ জন, হাসপাতালে ১ জন)
আহতের সংখ্যাআনুমানিক ৩০ জন (গুরুতর আহত ১১ জনকে সিলেটে স্থানান্তর)
প্রাথমিক কারণবেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা
উদ্ধারকারী সংস্থাশায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস

চিকিৎসার আপডেট ও যান চলাচল পরিস্থিতি

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোমেন উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, হাসপাতালে আসা আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়েছে।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়। ওসি আরও জানান, অতিরিক্ত গতির কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বর্তমানে পুলিশ বাস দুটি জব্দ করেছে এবং এ বিষয়ে একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

মহাসড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই দুর্ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাসের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। এই ঘটনার ফলে পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।