সপ্তম হয়েও কোটি টাকার প্রাপ্তি বাংলাদেশ নারী দলের

নারী ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে বড় মাইলফলক স্পর্শ করল এবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। নিউজিল্যান্ডের গত আসরের তুলনায় প্রাইজমানির বিশাল উল্লম্ফন এবারের আসরকে দিয়েছে অনন্য এক উচ্চতা। টুর্নামেন্টের সমাপনী লগ্নে দেখা যাচ্ছে, মাঠের লড়াইয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী শীর্ষ তিনে জায়গা করতে না পারলেও বিপুল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। পয়েন্ট টেবিলের সপ্তম স্থানে থেকে আসর শেষ করলেও সব মিলিয়ে টাইগ্রেসদের পকেটে ঢুকছে প্রায় ৭ কোটি টাকা।

রেকর্ড প্রাইজমানি ও বিশ্বকাপের ফাইনাল

রোববার (২ নভেম্বর) মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামছে এই ক্রিকেট মহাযজ্ঞের। মাঠের লড়াই যেমন রোমাঞ্চকর ছিল, টুর্নামেন্টের প্রাইজমানিও ছিল তেমনি আকাশছোঁয়া। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি এবারের নারী বিশ্বকাপের জন্য মোট ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার প্রাইজমানি নির্ধারণ করেছে। উল্লেখ্য, এই অঙ্কটি গত বছর ভারতে অনুষ্ঠিত পুরুষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানির চেয়েও প্রায় ১ কোটি ডলার বেশি, যা নারী ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।

বাংলাদেশের প্রাপ্তি যেভাবে হিসাব করা হয়েছে

আইসিসির পুরস্কার প্রদানের কাঠামোটি মূলত তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত অবস্থান এবং প্রতি ম্যাচের জয়। বাংলাদেশ নারী দল গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। এই প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত অর্থ যোগ করে বাংলাদেশের মোট আয়ের চিত্রটি দাঁড়িয়েছে বেশ সন্তোষজনক।


একনজরে বাংলাদেশ নারী দলের বিশ্বকাপ আয়ের বিবরণী

টাইগ্রেসদের বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্ত অর্থের খাতভিত্তিক বিভাজন নিচে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

আয়ের খাতপরিমাণ (মার্কিন ডলার)বাংলাদেশি টাকা (প্রায়)
অংশগ্রহণ ফি (পার্টিসিপেশন)২,৫০,০০০৩ কোটি ৬ লাখ টাকা
সপ্তম স্থান অধিকার বোনাস২,৮০,০০০৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা
ম্যাচ জয় (১টি ম্যাচ)৩৪,৩১৪৪২ লাখ টাকা
সর্বমোট প্রাপ্তি৫,৬৪,৩১৪৬ কোটি ৯০ লাখ ২৭ হাজার টাকা

চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের পুরস্কার

ফাইনালিস্ট দুই দলের জন্য রাখা হয়েছে পাহাড়সম পুরস্কারের অর্থ। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৪৪ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। রানার্সআপ দলের ঝুলিতে যাবে এর ঠিক অর্ধেক—২২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় সাড়ে ২৭ কোটি টাকা। ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নরা পেয়েছিল মাত্র ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। সেই তুলনায় এবার পুরস্কারের পরিমাণ প্রায় চারগুণ বাড়ানো হয়েছে।

নারী ক্রিকেটের নতুন দিগন্ত

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার নারী ক্রিকেটের পেশাদারিত্বকে আরও সুসংহত করবে। বাংলাদেশের মতো উদীয়মান দলগুলোর জন্য এই অর্থ কেবল প্রাপ্তি নয়, বরং তৃণমূল পর্যায় থেকে নারী ক্রিকেটার তৈরিতে বড় বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করবে। টুর্নামেন্টে সপ্তম স্থানে থাকলেও টাইগ্রেসরা যে লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে, তার স্বীকৃতি হিসেবে এই ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইসিসি যেভাবে নারী ও পুরুষ ক্রিকেটের পুরস্কারের ব্যবধান ঘুচিয়ে আনছে, তাতে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবেন। টাইগ্রেসদের এই বিশ্বকাপ যাত্রা কেবল মাঠের পারফরম্যান্সে নয়, বরং আর্থিকভাবেও একটি সফল মিশন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।