জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা এবার বড় ধরনের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন। রোববার (২ নভেম্বর) দুপুরে যমুনার (প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) অভিমুখে তাদের পূর্বঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচিটি পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে আটকে যায়।
আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
Table of Contents
১. লংমার্চ ও পুলিশের বাধা
টানা ২১ দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর আজ শিক্ষকরা তাদের দাবি সরাসরি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে লংমার্চ শুরু করেন।
সময়: দুপুর ২টা।
ঘটনাস্থল: জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা।
পুলিশের ভূমিকা: শিক্ষকরা লংমার্চ শুরু করে এগোতে চাইলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। এর ফলে প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।
২. শিক্ষকদের দাবি ও অভিযোগ
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, তারা বছরের পর বছর ধরে নামমাত্র বেতনে বা বিনাবেতনে শিক্ষা দান করছেন। তাদের মূল দাবিগুলো হলো:
জাতীয়করণ: স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাসমূহকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জাতীয়করণ করতে হবে।
অবহেলা থেকে মুক্তি: সরকারি অন্যান্য প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকরা সুযোগ-সুবিধা পেলেও ইবতেদায়ি শিক্ষকরা চরম বৈষম্যের শিকার।
ঘোষণার দাবি: আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকার আজই জাতীয়করণের ঘোষণা দিলে তারা কর্মসূচি স্থগিত করে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাবেন। অন্যথায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
৩. রাজনৈতিক সংহতি
ইবতেদায়ি শিক্ষকদের এই দীর্ঘকালীন আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছে দেশের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আজ তাদের দাবির পক্ষে কথা বলতে এবং সহমর্মিতা জানাতে প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়েছেন:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
নাগরিক ঐক্য
গণ অধিকার পরিষদ
রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা শিক্ষকদের এই দাবিকে যৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন এবং সরকারকে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
৪. আন্দোলনের পটভূমি
উল্লেখ্য যে, এই শিক্ষকরা গত তিন সপ্তাহ (২১ দিন) ধরে খোলা আকাশের নিচে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। তবুও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তারা মাঠ ছাড়তে নারাজ।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ: প্রাথমিক শিক্ষার একটি বড় অংশ এই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো পরিচালনা করলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে তারা সবসময়ই পিছিয়ে ছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুলিশের এই বাধা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সংহতি আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
