দক্ষিণী চলচ্চিত্রের মহাতারকা রজনীকান্ত এবং অভিনেতা ধানুষের চেন্নাইয়ের বাসভবনে বোমা রাখা হয়েছে—এমন একটি উড়ো হুমকির খবরে সোমবার ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে দ্রুত তদন্ত শেষে তামিলনাড়ু পুলিশ জানিয়েছে, এটি ছিল একটি ‘হোয়াক্স মেইল’ বা সাইবার অপরাধীদের ছড়ানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া বার্তা। তামিলনাড়ুর ডেপুটি জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) নিশ্চিত করেছেন যে, জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর লক্ষ্যেই এই ইমেইলটি পাঠানো হয়েছিল।
Table of Contents
দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তদন্ত
বোমা রাখার খবরটি ইমেইলের মাধ্যমে পৌঁছানোর পরপরই পুলিশ প্রশাসন কোনো ঝুঁকি নেয়নি। তৎক্ষণাৎ দুই তারকার চেন্নাইয়ের বাসভবনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হয়। চিরুনি তল্লাশিতে সন্দেহজনক কিছু না পাওয়ায় পরবর্তীতে একে ভুয়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমানে দুই তারকার বাসভবনেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
দক্ষিণ ভারতীয় তারকাদের লক্ষ্য করে সাইবার অপরাধ
পুলিশের তথ্যমতে, গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ ভারতীয় তারকাদের লক্ষ্য করে এ ধরনের ভুয়া হুমকি বা হোয়াক্স বার্তার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এবারের তালিকায় রজনীকান্ত ও ধানুষের পাশাপাশি তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটির সভাপতি কে. সেভালপেরুনথাগাই-এর নামও ছিল।
ইতিপূর্বে একই ধরণের সাইবার হয়রানির শিকার হয়েছেন:
অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন
কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞ ইল্লাইরাজা
বিজয় (থালাপতি) ও অজিত কুমারের মতো শীর্ষ তারকারা।
সাম্প্রতিক হোয়াক্স মেইল ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির একনজরে রূপরেখা
তামিলনাড়ু পুলিশের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও গৃহীত পদক্ষেপ নিচে সারণিবদ্ধ করা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| টার্গেট ব্যক্তি | রজনীকান্ত, ধানুষ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ |
| হুমকির মাধ্যম | বেনামী ইমেইল (সাইবার ক্রাইম) |
| পুলিশি পদক্ষেপ | বাসভবনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও ডগ স্কোয়াড তল্লাশি |
| তদন্তকারী বিভাগ | তামিলনাড়ু সাইবার ক্রাইম ইউনিট |
| উদ্দেশ্য | সেলিব্রিটিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা ঘটানো |
| বর্তমান অবস্থা | প্রেরককে শনাক্ত করতে ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত চলছে |
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের পদক্ষেপ ও সতর্কতা
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের মেইলগুলো সাধারণত এনক্রিপ্টেড বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (VPN) ব্যবহার করে পাঠানো হয় যাতে প্রেরকের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়। তবুও সাইবার ক্রাইম ইউনিট আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপরাধীদের ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষ ও তারকাদের জন্য কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
এ ধরণের মেইল বা বার্তা পেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানানো।
অপ্রমাণিত কোনো তথ্যে কান না দেওয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা শেয়ার না করা।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সন্দেহ হলে সরাসরি পুলিশের হেল্পলাইন ব্যবহার করা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মত
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন ও দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটাতেই হ্যাকার বা বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তিরা এই পথ বেছে নেয়। তবে পুলিশের দ্রুত সাড়া প্রদান এবং উচ্চ প্রযুক্তির সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে এই ধরণের আপত্তিকর পরিস্থিতি এখন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে।
তামিলনাড়ু পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যেকটি হুমকির পেছনে কারা রয়েছে তা খুঁজে বের করতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চলমান থাকবে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
