ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বেরু দেশটির রাজনীতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শুক্রবার কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি অযৌক্তিক সুবিধা ভোগকারী রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করার অঙ্গীকার করে বলেন, সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, রাজনীতিবিদরা “নিজের পকেট ভরছেন।”
প্যারিস থেকে এএফপি জানায়, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় জনগণের মতামত নেওয়ার সময় ব্যাপকভাবে এ অনাস্থা উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ফ্রান্সের ৪৪ বিলিয়ন ইউরোর বাজেট ঘাটতি কমাতে ব্যয় সংকোচনের পরিকল্পনা করছেন, যদিও এতে তিনি তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।
নিজের ব্যয় হ্রাস পরিকল্পনার ব্যাখ্যা দিতে বেরু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক ভিডিও প্রচার করছেন। শুক্রবার প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি বলেন, “অনেক ফরাসি মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য বা সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষাধিকার হ্রাস করা উচিত।”
তিনি বলেন, “আমি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নিচ্ছি। কারণ এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, অনেক মানুষ বিশ্বাস করছে রাজনীতিকেরা জনগণের অর্থ অপচয় করছেন নিজেদের সুবিধার জন্য।”
বেরু আরও বলেন, “আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, এখনো এমন কোনো অবস্থা কি আছে যেখানে কোনো সংসদ সদস্য বা সরকারি কর্মকর্তা অপ্রয়োজনীয় বা অগ্রহণযোগ্য সুবিধা নিচ্ছেন?”
প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, কেউ যদি অন্যায্য সুবিধা ভোগ করে থাকেন, তবে তা ‘নির্মূল’ করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সে একাধিক রাজনীতিবিদ দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন। ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালির নেতা মেরিন লে পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আরও কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের রাজনীতিবিদও দুর্নীতি মামলায় জড়িত রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য ফ্রান্সে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া সন্দেহের প্রেক্ষাপটে বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
