ভেনিজুয়েলার উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তিনি এই পদক্ষেপকে একটি “অবৈধ ও অপরাধমূলক” শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
কারাকাস থেকে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, মার্কিন প্রশাসন মাদক পাচার রোধের অজুহাতে ভেনিজুয়েলার জলসীমার দিকে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। একটি মার্কিন সূত্র নিশ্চিত করেছে, তিনটি এজিস-শ্রেণীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইতোমধ্যে ভেনিজুয়েলার কাছাকাছি পৌঁছেছে। মার্কিন গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, ৪ হাজার মেরিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মাদুরো পার্লামেন্টে বক্তব্যে বলেন, “এটি ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের হুমকি। এই ধরনের পদক্ষেপ ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের শান্তির বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ।” তিনি আরও বলেন, “যেকোনো ল্যাটিন দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন মানেই পুরো অঞ্চলের বিরুদ্ধে আক্রমণ।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চলতি মাসেই মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে পুরস্কারমূল্য দ্বিগুণ করে ৫০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছে, মাদুরো “দ্য কার্টেল অফ দ্য সানস” নামক একটি কোকেন পাচারকারী চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যারা গত দুই দশকে শত শত টন মাদক যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোকে বৈধ বলে মানতে নারাজ।
মার্কিন পদক্ষেপের জবাবে মাদুরো জানান, তিনি দেশজুড়ে ৪৫ লাখ মিলিশিয়া সদস্য মোতায়েন করবেন এবং জাতীয়ভাবে জনসমর্থন জাগাতে সপ্তাহান্তে প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজনের ডাক দিয়েছেন।
তিনি এই পদক্ষেপকে সরাসরি ওয়াশিংটনের হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “ভেনিজুয়েলা কারো উপনিবেশ হবে না।”
