হ্যানয়ে পেট্রোলচালিত বাইকের ওপর নিষেধাজ্ঞায় ক্ষোভ, দুর্ভাবনায় স্কুটার চালকরা

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করার উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় স্কুটার চালকরা। তাদের আশঙ্কা, প্রস্তুতি ছাড়াই বাস্তবায়িত হলে এই পরিকল্পনার বোঝা সবচেয়ে বেশি পড়বে সাধারণ মানুষ ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীদের ওপর।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই শহরের কেন্দ্রীয় ৩১ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করা হবে। পরবর্তী পাঁচ বছরে এই নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে পুরো শহরে কার্যকর করা হবে।

৫২ বছর বয়সী গৃহিণী ডাং থুই হান, যিনি হ্যানয়ের কেন্দ্রেই থাকেন, বলেন, “পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা অবশ্যই ভালো, কিন্তু প্রস্তুতি ছাড়া কেন হঠাৎ আমাদের ওপর এই খরচের বোঝা চাপানো হচ্ছে?” তিনি জানান, পরিবারের চারটি স্কুটার বদলে ই-বাইক কিনতে তাদের প্রায় ৮ কোটি ডং (৩,০০০ ডলার) লাগবে।

হ্যানয়ে যান চলাচলের বড় অংশজুড়ে রয়েছে স্কুটার। ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশটিতে ৭ কোটির বেশি মোটরসাইকেল রয়েছে। আর হ্যানয় প্রায়শই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় উঠে আসে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, দূষণের কারণে ভিয়েতনামে প্রতি বছর অন্তত ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

হ্যানয়ের উপ-মেয়র ডুং ডাক টুয়ান বলেন, “বায়ু দূষণ এখন জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি। তাই কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।”

তবে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। ডেলিভারি অ্যাপ ‘গ্র্যাব’-এ কাজ করা ৪৫ বছর বয়সী ট্রান ভ্যান টান জানান, “ই-বাইকের খরচ আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে বহন করা অসম্ভব।” প্রতিদিন তিনি পাশের প্রদেশ হাং ইয়েন থেকে ৪০ কিলোমিটার বাইকে যাতায়াত করেন।

তাছাড়া ই-বাইকের ব্যাটারির সীমিত পরিসর দীর্ঘ যাত্রার জন্য উপযোগী নয় বলেও তার উদ্বেগ।

শহরের গৃহিণী হান জানান, ই-বাইক চার্জ দেওয়ার জন্য কাছাকাছি কোনও চার্জিং স্টেশন নেই। “পরিকাঠামো প্রস্তুত না হলে মানুষকে জোর করে পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক,” বলেন তিনি।

হ্যানয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা প্রতিটি ই-বাইকে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডং (প্রায় ১১৪ ডলার) ভর্তুকি দেওয়ার কথা ভাবছে। একইসঙ্গে গণপরিবহন বাড়ানো ও আর্থিক সহায়তার কথাও বিবেচনায় রয়েছে।

ভিয়েতনামে অধিকাংশ পরিবার যাতায়াত, কাজ বা স্কুলে যাওয়ার জন্য একাধিক মোটরসাইকেল ব্যবহার করে। তাই এই পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের খরচ বেশি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য।

তবে হ্যানয় একমাত্র নয়—দক্ষিণের হো চি মিন শহরও ধাপে ধাপে ই-বাইক চালু করতে চায়, বিশেষত ডেলিভারি ও পরিষেবা খাতে ব্যবহৃত বাইকের ক্ষেত্রে।

এদিকে, ইউরোপের বার্সেলোনা, প্যারিস ও আমস্টারডামসহ বহু শহর ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন চালিত গাড়ির ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছে। ভিয়েতনামও সেই পথেই হাঁটতে চায়।

তবে, অনেকেই এর বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দিহান। ৪২ বছর বয়সী কর্মজীবী নগুয়েন মাই হোয়া বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সহজ নয়। বাইরের জেলা থেকে আসা পেট্রোলচালিত বাইকগুলো থামানো সম্ভব না হলে, পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত হবে না।”