গাজায় ত্রাণ নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি হামলায় নিহত ৩৯, আহত শতাধিক

গাজার দু’টি ত্রাণকেন্দ্রের কাছে অপেক্ষমাণ ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৩৯ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। শনিবার এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।

সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, গাজার খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও রাফাহর উত্তর-পশ্চিমে দুটি পৃথক ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। তার ভাষায়, “ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে” এসব ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

গাজায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে যাওয়া মানুষের ওপর হামলার ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার জন্য বারবার ইসরাইলকেই দায়ী করে আসছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী, ৩৭ বছর বয়সী আবদুল আজিজ আবেদ বলেন, “ভোর হওয়ার আগেই আমি পাঁচজন আত্মীয়কে নিয়ে ত্রাণ সংগ্রহে গিয়েছিলাম। হঠাৎ ইসরাইলি সেনারা গুলি চালাতে শুরু করে। আমরা কেউই ত্রাণ পাইনি, শুধু গুলি আর হতাশা নিয়ে ফিরে আসি প্রতিদিন।”

আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের অভিযোগ করেছেন।

এদিকে ইসরাইলি বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাফাহ এলাকায় এক অভিযানের সময় কিছু মানুষ সেনাদের দিকে এগিয়ে আসে, যা তাদের কাছে হুমকি হিসেবে মনে হয়। প্রথমে সরতে বললেও না সরায়, তারা সতর্কতামূলক গুলি চালায়। সেনারা দাবি করেছে, গুলি চালানো হয়েছিল ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে, যেখানে সেই সময় কোনো কার্যক্রম চলছিল না। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানায় তারা।

এ ছাড়া, গাজার নুসাইরাত এলাকায় একটি বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় আরও ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স।

তবে গাজায় স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা কঠিন, কারণ গণমাধ্যমের ওপর কড়াকড়ি এবং বহু এলাকায় প্রবেশের বাধা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে হামলার পর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখনো চলছে। এতে গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা ও ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিশ লাখের বেশি মানুষ ক্ষুধা, অপুষ্টি ও মানসিক-শারীরিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, গাজার প্রতি তিনজনের একজন নিয়মিতভাবে না খেয়ে থাকেন এবং হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, তাদের কাছে তিন মাস চলার মতো খাদ্যসামগ্রী থাকলেও তা গুদামে আটকে আছে, এবং বিতরণে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

হামাসের দাবি—যুদ্ধবিরতির জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত হলো গাজায় অবাধ ত্রাণ প্রবাহ নিশ্চিত করা। তারা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়ে আসছে।

ইসরাইলি সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের হামাসের হামলায় ১,২১৯ জন নিহত হয়, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক।

অন্যদিকে, গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৮,৭৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।