২০১৯ সালের ভয়াবহ ইস্টার সানডে আত্মঘাতী বোমা হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায়ে শ্রীলঙ্কার এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে দেশটির জাতীয় পুলিশ কমিশন।
ওই হামলায় ৪৫ জন বিদেশিসহ মোট ২৭৯ জন নিহত হন এবং আহত হন ৫০০-রও বেশি মানুষ। হামলার পেছনে ছিল একটি স্থানীয় ইসলামপন্থি জিহাদি গোষ্ঠী, যারা ইসলামিক স্টেটের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিল।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা হলেন তৎকালীন রাজ্য গোয়েন্দা পরিষেবা (এসআইএস) প্রধান নীলান্ত জয়াবর্ধনে। তার বিরুদ্ধে ইসলামপন্থি জঙ্গিদের হামলার আগাম সতর্কতা উপেক্ষার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
আদালতের রেকর্ড বলছে, হামলার ১৭ দিন আগে জয়াবর্ধনেকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই হামলাটি ঘটে রাজধানী কলম্বোর তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে।
শনিবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পুলিশ কমিশন জানায়, অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারকের নেতৃত্বে হওয়া শৃঙ্খলা তদন্তে জয়াবর্ধনে দায়িত্বে গাফিলতি ও অবহেলার সাতটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় কমিশন সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে তাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
ইস্টার হামলার পর জয়াবর্ধনেকে এসআইএস প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাকে পরবর্তীতে পুলিশ বাহিনীর উপ-মহাপরিদর্শকের পদে উন্নীত করা হয়।
তবে বিচার বিভাগীয় আদেশের ভিত্তিতে এক বছর আগে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়।
হামলার পর গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা, জয়াবর্ধনে ও আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সুপারিশ করেছিল।
এ ছাড়া, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট এক দেওয়ানি মামলার রায়ে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দেয়।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিসানায়েকের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার এই হামলার পুনঃতদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
