সিরীয় সেনা সদর দপ্তরে ইসরাইলের বিমান হামলা, সুধায় সংঘাতে নিহত ২৪৮

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেন, সুইদা প্রদেশে দ্রুজ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে সিরিয়াকে আগে থেকেই হুঁশিয়ার করা হয়েছিল। হামলার পর সিরীয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, এতে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন।

এর আগে সুইদায় সরকারপন্থী বাহিনী শান্তি রক্ষা চুক্তির কথা বলে প্রবেশ করলেও, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে তারা বেদুইন যোদ্ধাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে দ্রুজ জনগোষ্ঠী ও যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালায়। এতে শুরু হয় ভয়াবহ সংঘাত, যা ইতোমধ্যে ২৪৮ জনের প্রাণ কেড়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ৯২ জন দ্রুজ, যাদের মধ্যে ২১ জনকে সরকারি বাহিনী নির্বিচারে হত্যা করেছে। বাকি নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১৩৮ জন সরকারি নিরাপত্তা কর্মী এবং ১৮ জন বেদুইন যোদ্ধা।

সংঘাতের সূত্রপাত হয় এক দ্রুজ সবজি বিক্রেতাকে অপহরণের মাধ্যমে, যা পাল্টা অপহরণ ও হামলার রূপ নেয়। সিরীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ‘আইনের বাইরে থাকা কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী’ সেনাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে এবং তারা এখনো জবাব দিচ্ছে।

ইসরাইলি ধর্মীয় নেতা শেখ মওয়াফাক তারিফ চলমান সহিংসতাকে দ্রুজ জাতিসত্তার অস্তিত্বের লড়াই বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইসরাইল তাদের পক্ষে থাকবে।

এদিকে সুইদার পশ্চিমাঞ্চলে ভারী গোলাবর্ষণে ব্যাপক ধ্বংসের খবর দিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘সুইদা ২৪’। শহরে এখনও গুলি ও বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইসরাইলের হস্তক্ষেপ আসলে ইসলামপন্থী সিরীয় বাহিনীকে সীমান্ত অঞ্চল থেকে দূরে রাখার কৌশলের অংশ।