গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তৈরি হওয়া জটিলতা দূর করতে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা। দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানো এই আলোচনার মধ্যেই ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে ২০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রায় ২১ মাস ধরে চলা সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির আলোচনায় কাতারে পরোক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে উভয় পক্ষ। তবে একে অপরকে দোষারোপ করায় আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
একজন কর্মকর্তা সোমবার এএফপিকে জানান, আলোচনা বর্তমানে গাজার ভেতরে ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থান নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত মানচিত্রের ওপর কেন্দ্র করে চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, মধ্যস্থতাকারীরা বিরোধ নিরসনে এবং আলোচনা সচল রাখতে নতুন উপায় খুঁজে চলেছেন।
এদিকে, হামাস এক টেলিগ্রাম বার্তায় অভিযোগ করেছে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনা ভেঙে দিতে কাজ করছেন এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে অনিচ্ছুক।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার গাজা সিটি, আশপাশের এলাকা এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা গাজার শুজাইয়া ও জেইতুন এলাকায় হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ যোদ্ধাদের ব্যবহৃত ভবন ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করেছে।
অন্যদিকে, ইসলামিক জিহাদের সশস্ত্র শাখা আল-কুদস ব্রিগেডস জানায়, তারা শুজাইয়ার কাছে একটি ইসরাইলি সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী পরে জানায়, গাজা উপত্যকার উত্তরে চলমান সংঘর্ষে তাদের ১৯, ২০ ও ২১ বছর বয়সী তিন সেনা আহত হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন। একই ব্যাটালিয়নের আরেক সেনা গুরুতর আহত রয়েছেন।
