ইয়েমেনে হুথি অবস্থানে ইসরাইলের সমন্বিত হামলা

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সোমবার ভোরে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুদাইদা, রাস ইসা ও সালিফ বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে বিমান হামলা চালানো হয়। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, হুথিদের সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করতেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইয়েমেন থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন রোববার রাতে জানায়, হুদাইদা বন্দর, রাস ইসা, সালিফ বন্দর এবং রাস আল-কাথিব বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর ইসরাইলি হামলা শুরু হয়েছে।

জানা যায়, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এসব হামলা চালানো হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের ইসরাইল আক্রমণের পর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়। সেই সময় থেকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরাইলের উদ্দেশ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে হুথিরা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে ইসরাইল সংশ্লিষ্ট কার্গো ও শিপিং জাহাজগুলোতেও আক্রমণ চালায়। এর মধ্যে ‘গ্যালাক্সি লিডার’ নামের একটি কার্গো জাহাজ ২০২৩ সালের নভেম্বরে হুথিরা দখলে নেয়। পরে সেটিতে রাডার স্থাপন করে তারা।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হুথিদের হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করলে হুথিরা ওই দেশগুলোর জাহাজকেও টার্গেট করে।

গত মে মাসে হুথি বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছালেও, ইসরাইলি জাহাজ ও লক্ষ্যবস্তুতে তাদের হামলা অব্যাহত থাকে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এসব আক্রমণ চালানোর দাবি করে আসছে হুথি বিদ্রোহীরা।