ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের নিকটবর্তী ডাউনিতে অভিবাসন পুলিশের অভিযানের পর ল্যাটিনো অভিবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় এক গাড়ি ধোয়ার কারখানায় অভিযান চালিয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা দুই কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীকে আটক করলেও, পাশের এক শ্বেতাঙ্গ কর্মীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে অনেকেই ‘জাতিগত প্রোফাইলিং’ হিসেবে দেখছেন।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক জোস জানান, অভিযানের দিন দোকানে থাকা ১০ জনের কেউই বৈধ কাগজপত্র না রাখলেও, শুধু গাঢ় বর্ণের দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ভাষায়, এটি নিছক কাকতালীয় নয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসে সম্প্রতি অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হলেও অভিযান থামেনি। মন্টেবেলোতে এক কর্মচারীকে জোরপূর্বক গেটের সামনে ধাক্কা দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তি চিৎকার করে বলেন, ‘আমি আমেরিকান।’ পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ডাউনির কাউন্সিলম্যান মারিও ট্রুজিলো জানান, শুধু মেক্সিকান চেহারার লোকদের টার্গেট করা হচ্ছে। যা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কিন্তু বাস্তব পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ‘ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, জুনের প্রথম ১০ দিনে লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চল থেকে ৭২২ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়। তাদের ৬৯ শতাংশের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না এবং ৫৮ শতাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ক্যালিফোর্নিয়ার ছয় রিপাবলিকান স্টেট সিনেটর ট্রাম্পকে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ ধরনের অভিযান শুধু অননুমোদিত নয়, বৈধ অভিবাসীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি করছে। এতে শ্রম সংকটে পড়ছে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত।
স্থানীয় ল্যাটিনো অভিবাসীরা জানান, এখন তারা বাইরে বের হলে সবসময় বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখছেন। এমনকি যারা বৈধ বাসিন্দা, তারাও নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। এক মেক্সিকান নারী শ্রমিক বলেন, ‘আমরা স্থায়ী বাসিন্দা হলেও এখন ভয় নিয়েই চলতে হচ্ছে।’
