গাজাগামী জাহাজ আটক নিয়ে ইসরায়েলের সমালোচনা, আটক কর্মীদের মুক্তির দাবি ম্যাক্রোঁর

গাজামুখী একটি ত্রাণবাহী জাহাজ আটক করায় ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি জাহাজটিতে থাকা পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ সকল কর্মীর দ্রুত মুক্তি দাবি করেছেন।

সোমবারের এ ঘটনার পর ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এএফপি জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী ‘ম্যাডলিন’ নামের ওই জাহাজটি আটক করে। এতে ১২ জন কর্মী ছিলেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ফ্রান্সের প্যারিসসহ অন্তত পাঁচটি শহরে বামপন্থী দলগুলোর ডাকে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। ‘ফ্রান্স আনবোউড (এলএফআই)’ দলের নেতা জ্যাঁ-লুক মেলঁশোঁ এই অভিযানকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেন।

এছাড়া, সুইজারল্যান্ডের জেনেভা ও লোজান শহরের প্রধান রেলস্টেশন অবরোধ করে শত শত মানুষ ইসরায়েলের গাজা আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানায়। জেনেভায় প্রায় ৩০০ জন বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে দুটি রেললাইন এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখলে ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ আটক ১২ কর্মীর মধ্যে থাকা ছয়জন ফরাসি নাগরিককে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ফ্রান্স ‘সব সময় বিপদে থাকা নাগরিকদের পাশে রয়েছে।’

ম্যাক্রোঁ ইসরায়েলের গাজা অবরোধকেও ‘লজ্জাজনক ঘটনা’ এবং ‘একটি কেলেঙ্কারি’ বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘ম্যাডলিন’ জাহাজকে ব্যঙ্গ করে ‘সেলফি ইয়ট’ আখ্যা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজের সকল যাত্রী নিরাপদে ও অক্ষত আছেন এবং তারা প্রত্যাশা করছে, কর্মীরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে এবং কার্যত সেখানকার মানবিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটিয়েছে।