গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫২, স্কুলে প্রাণ গেল ৩৩ জনের

সোমবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ৩৩ জন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলে প্রাণ হারান। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজার উদ্ধারকর্মীরা।

গাজা শহর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ফাহমি আল-জারজাওয়ি স্কুলে চালানো এই হামলায় নিহতদের বেশিরভাগই শিশু। বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, ভোররাতে এ হামলায় কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারীও রয়েছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ওই স্কুলটিকে হামাস যোদ্ধারা তাদের আবাসস্থল ও অপারেশন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছিল।

এছাড়া সোমবার ভোরে উত্তর গাজার জাবালিয়া শহরে আব্দ রাব্বো পরিবারের বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও ১৯ জন নিহত হন।

গাজায় চলমান ইসরায়েলি অবরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও নিন্দা বাড়ছে।

রোববার স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে ইউরোপীয় ও আরব দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিশ্ব নেতারা গাজায় যুদ্ধ বন্ধ এবং ত্রাণ সরবরাহের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজা জুড়ে ২০০টিরও বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্য করা হয়েছে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের ঘাঁটি, অস্ত্রাগার, স্নাইপার ও ট্যাঙ্ক-বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র পোস্ট এবং টানেল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত গাজায় ৩ হাজার ৭৮৫ জন নিহত হয়েছেন। আর গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৫৩ হাজার ৯৩৯ জন। নিহতদের বেশিরভাগই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক।

এদিকে, এএফপি’র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১,২১৮ জন নিহত হন। হামাস ২৫১ জনকে জিম্মি করেছিল, যাদের মধ্যে এখনো ৫৭ জন বন্দি অবস্থায় গাজায় রয়েছেন এবং ৩৪ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

ইসরায়েল বলছে, হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে তারা অভিযান চালিয়ে যাবে।