উত্তর কোরিয়ায় নতুন একটি যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধনের সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার ঘটনায় আরও এক কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এই তথ্য জানিয়েছে।
গত বুধবার উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর নগরী চোংজিনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘গুরুতর দুর্ঘটনা’ ঘটে। এতে সদ্য নির্মিত ৫ হাজার টন ওজনের নৌ-বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ারটির তলদেশের কিছু অংশ ভেঙে যায় এবং জাহাজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এই ঘটনাকে ‘চরম অবহেলার ফল’ ও ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
রোববার দেশটির শীর্ষ গোলাবারুদ শিল্প বিভাগের উপ-পরিচালক রি হিয়ং সনকে তলব করে আটক করা হয়। কেসিএনএ জানায়, এই কর্মকর্তার ‘গুরুতর দায়িত্বহীনতার জন্য’ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
এর আগে, একই ঘটনায় জাহাজ নির্মাণ প্রকৌশলীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মোট চারজনকে আটক করা হলো।
কেসিএনএ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তে শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক হং কিল হোকেও তলব করেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, উদ্বোধনের সময় দুর্ঘটনার পর জাহাজটির ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে এবং তা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সূত্র ও ওয়াশিংটন-সিউলের গোয়েন্দা বিশ্লেষণ অনুসারে, যুদ্ধজাহাজটি পাশ থেকে পানিতে নামানোর (সাইড-লঞ্চ) প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে একদিকে কাত হয়ে যায়।
তবে কেসিএনএ দাবি করেছে, পানির নিচে ও অভ্যন্তরীণ পরিদর্শনে দেখা গেছে, ‘জাহাজের তলদেশে কোনো ছিদ্র হয়নি’ এবং ক্ষয়ক্ষতি ‘ততটা গুরুতর নয়’।
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, নতুন যুদ্ধজাহাজটির আকৃতি ও ক্ষমতা সম্প্রতি উন্মোচিত ৫ হাজার টন ওজনের ‘চোয়ে হিয়ন’ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারের অনুরূপ।
অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, ‘চোয়ে হিয়ন’ শ্রেণির এই যুদ্ধজাহাজ ‘সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র’ বহনে সক্ষম এবং আগামী বছরের শুরুর দিকে কার্যক্রম শুরু করবে।
সিউলের ধারণা, এই যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে রাশিয়ার কারিগরি সহায়তা রয়েছে এবং বিনিময়ে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার হয়ে সেনা পাঠিয়েছে পিয়ংইয়ং।
