ইরানের বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৮, আহত শতাধিক, আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম

ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক বন্দর শহীদ রাজাঈতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৮০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের একদিন পর রোববারও আগুন জ্বলছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

শনিবার দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশের এ বন্দরে রাসায়নিক ও বিপজ্জনক পদার্থের ডিপোতে আগুন লাগার পর ভয়াবহ এই বিস্ফোরণ ঘটে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, বন্দরের আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া আর একের পর এক কনটেইনারে আগুন। আগুন নেভাতে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছিল সোডিয়াম পারক্লোরেট, যা ক্ষেপণাস্ত্রের কঠিন জ্বালানির উপাদান। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ৫০ কিলোমিটার দূর থেকেও তা অনুভূত হয় এবং বন্দরের অধিকাংশ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রোববার সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে রাষ্ট্রীয় টিভি বলেছে, ঘটনাস্থলে এখনও আগুন জ্বলছে এবং ধোঁয়ার কারণে আশপাশের এলাকা আচ্ছন্ন। দুর্ঘটনায় তিনজন চীনা নাগরিক সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক সিসিটিভি।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শত শত আহত ব্যক্তিকে কাছাকাছি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাদেশিক রক্ত সঞ্চালন কর্তৃপক্ষ রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছে।

ঘটনার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান শোক প্রকাশ করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনিকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন।

বিস্ফোরণের কারণে হরমুজগান প্রদেশের রাজধানী বন্দর আব্বাসের সব স্কুল ও অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এই দুর্ঘটনায় ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।

তেল স্থাপনাগুলো নিরাপদ রয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ইরানি তেল কোম্পানি জানিয়েছে, এই বিস্ফোরণের সঙ্গে কোনো পরিশোধনাগার, পাইপলাইন বা তেলের ট্যাংকের যোগসূত্র নেই।

এ ধরনের ঘটনা ইরানে খুবই বিরল। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্বাঞ্চলের তাবাস শহরে একটি কয়লাখনিতে গ্যাস লিকেজে ৫০ জন নিহত হয়েছিলেন।

বিস্ফোরণটি এমন এক সময় ঘটলো যখন তেহরানে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ওমানে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন।