দক্ষিণ কোরিয়া সোমবার জানায়, তারা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কয়েকদিন ধরে চলমান একাধিক দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে হেলিকপ্টার, হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং সেনা মোতায়েন করবে।
সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তীব্র বাতাস এবং উর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।
কোরিয়া বন পরিষেবার প্রধান লিম সাং-সিওপ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, উইসংয়ে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৬০০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগুন নেভানোর জন্য মোট ৫৭টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হবে।
এছাড়াও, সেনাসহ ২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী দাবানল নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে।
সোমবার বিকেল পর্যন্ত আগুন আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও, এখনও কিছু জায়গায় তা জ্বলছে। বন সংস্থা উত্তর ও দক্ষিণ গিয়ংসাং প্রদেশ, বুসান এবং দায়েজিওনসহ একাধিক এলাকায় সর্বোচ্চ স্তরের অগ্নি সতর্কতা জারি করেছে।
গত সপ্তাহান্তে দক্ষিণ গিয়ংসাং প্রদেশের সানচেং কাউন্টিতে একটি বড় দাবানলে চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে একাধিক স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, এবং সরকার ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
সোমবার সকালে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্বহাল হওয়া প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ও নিরাপত্তা প্রতিরোধ ব্যবস্থার সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন। তিনি কর্তৃপক্ষকে আগুন সম্পূর্ণ নিভে না যাওয়া পর্যন্ত একসাথে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এটি সত্যিই একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা,” এবং আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করার কথাও জানান।
প্রধান বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা লি জে-মিয়ং কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এবং নিরাপদে আগুন নেভানোর জন্য তাদের সব উপায় কাজে লাগানোর এবং দাবানল প্রতিরোধে আরো ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
