ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, হুতিকে ‘সম্পূর্ণরূপে নির্মূল’ করা হবে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে ‘সম্পূর্ণরূপে নির্মূল’ করার হুমকি দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ইরানকে পুনরায় হুতি গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গাজা সংঘাতের প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে গতকাল বুধবার ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন।

গাজায় ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করার কারণে গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইসরাইলি জাহাজের ওপর আবার হামলার হুমকি দেয়। এর আগে, শনিবার, ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের ওপর তীব্র বিমান হামলা শুরু করে, যা এখনও চলমান রয়েছে। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ ১৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

এমন পরিস্থিতিতে, লোহিত সাগরের অঞ্চলে আমেরিকান যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলার পাশাপাশি ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করে হুতিরা। মঙ্গলবার, গোষ্ঠীটি জানায় যে, তারা কৃষ্ণসাগরে অবস্থানরত মার্কিন রণতরি ইউএসএস হ্যারি ট্রুম্যানের ওপর একাধিক ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

তবে, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই দাবিকে মিথ্যা বলে অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে, বিদ্রোহীদের ছোঁড়া মিসাইল বা ড্রোন লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হেনেছে। এছাড়া, বেশিরভাগ ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর, ট্রাম্প ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিকে আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “হুতি বর্বরদের প্রচণ্ড ক্ষতি করা হয়েছে। সামনে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে। এটা একে অপরকে সমানভাবে লড়াইয়ের পরিস্থিতি নয়, এবং কখনও হবে না। তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হবে!”

হুঁশিয়ারির পর, মার্কিন বাহিনী সানাসহ সা’দা, আল-জাওফ, আল-হাজম এবং আল-বায়দার আস-সাওয়াদিয়াহ জেলায় হামলা চালায়, যাতে ১৬ হুতি যোদ্ধা নিহত হন। এছাড়া, বেশ কিছু নারী ও শিশুসহ আরো হতাহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি গোষ্ঠী।