দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে লাগবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। বুধবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাস্তব অবস্থা হচ্ছে বিএনপি বড় বড় সমাবেশ করে। শুনেছি তারা অর্থ খরচ করে লোক আনে। কিন্তু বৃহত্তর জনগণের কাছে গেলে জানতে পারবেন, তারা আওয়ামী লীগকেই পছন্দ করে। আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শক্ত অবস্থানে থাকলে বিদেশি বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র কাজে লাগবে না। আর আমরা যদি দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে লাগবে না। সেই সমস্ত দেশে ষড়যন্ত্র সফল হয় যেখানে আভ্যন্তরীণ সংঘাত থাকে অনেক বেশি।
দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে লাগবে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আভ্যন্তরীণ সংঘাত খুব কম। আর বিএনপিও চাইবে না দেশটা ধ্বংস হয়ে যাক। দেশটা আমরা ধ্বংস করতে চাই না। যেখানে এগুলো (সামরিক শাসন) হয়েছে, সেখানে মানুষের জন্য অনেক অমঙ্গল ডেকে নিয়ে এসেছে। বিএনপি যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাহলে নিশ্চয়ই তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চেষ্টা করবে।
তিনি আরও বলেন, ব্রিকসের সদস্য পদ পাওয়া এর সদস্যদের ওপর নির্ভর করে। দক্ষিণ আফ্রিকা, চীনসহ তিনটি দেশ চাচ্ছে নতুন সদস্য নিতে। আর ভারত ও ব্রাজিল বলছে সদস্য পদ দেওয়ার আগে একটি নিয়ম তৈরি হোক। এটি ব্রিকসের সদস্যদের বিতর্ক। ব্রিকস যখন সদস্য পদ দেয়, তখন দেবে।
সদস্য পদের জন্য ভারতে কোনো অনুরোধ করা হবে কিনা– জানতে চাইলে এর সরাসরি কোনো উত্তর দেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।ব্রিকস সম্মেলনে সাইড লাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে তিনি বলেন, এটি আমরা চিন্তা–ভাবনা করছি। কারণ সেপ্টেম্বরের ৯–১০ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক চেয়েছি এবং তারা দিয়েছে। দিল্লিতে দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে ভালো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। দক্ষিণ আফ্রিকাতে আমরা আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ হবে।
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের আরেক বছর পূর্তিতে প্রত্যাবাসনের কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কিনা– জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটি বলা যাচ্ছে না। এর আগে দুইবার দিন তারিখ ঘোষণা করে প্রত্যাবাসন হয়নি। মিয়ানমারও তারিখ দিয়েছিল, তখনও হয়নি। এখন তো কিছু লোকজন উঠেপড়ে লেগেছে, যেন রোহিঙ্গারা না যায়। আমাদের অনেক বন্ধু দেশ মনে করে রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা দিয়ে বাংলাদেশেই রেখে দিতে। কারণ পশ্চিমা দেশে শরণার্থী যারা আশ্রয় নেয়, তারা সেখানেই বসবাস করে। প্রত্যাবাসনের কোনো উদাহরণ পশ্চিমা দেশে নেই।
