আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করায় চিনির দাম বেড়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করায় চিনির দাম বেড়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী। দেশে চিনির চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশ আমদানি করতে হয় উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে চিনির দাম বেড়েছে।

রোববার (১৪ মে) রাজধানীর বাড্ডার সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল স্কুল মাঠে দেশব্যাপী এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে মে মাসের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে এ কথা বলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করায় চিনির দাম বেড়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

টিপু মুনশি বলেন, দেশে চিনির চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশ আমদানি করতে হয়। এ জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বাড়লে দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়ে।
তিনি বলেন, সয়াবিন তেল, ডাল ও চিনি আমদানিনির্ভর। বেশ কিছুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। যেসব পণ্য আমদানি করে দেশে বিক্রি করতে হয়, সেগুলোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দামের সামঞ্জস্য ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয় জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, এরপরও অনেক অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রয়ের চেষ্টা করে থাকেন। এ জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের দিয়ে বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি বছরের এপ্রিল থেকে শুল্কছাড় অব্যাহত না রাখায় ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে বলে জানান টিপু মুনশি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে বাড়েনি ভোজ্যতেলের দাম।
এনবিআর শুল্কছাড় অব্যাহত রাখলে বাজারে তেল ও চিনির দাম কমতে পারে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তেলের ওপর শুল্কছাড় অব্যাহত রাখতে এনবিআরকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিনির শুল্কছাড়ের মেয়াদ আগামী ৩১ মে শেষ হবে। চিনির শুল্কছাড় অব্যাহত রাখতেও চিঠি দেয়া হবে।

এ সময় টিপু মুনশি আরও বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষ যাতে কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারেন, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী টিসিবির মাধ্যমে তেল, চিনিসহ অন্যান্য পণ্য বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রতিমাসে এক কোটি পরিবারকে একবার করে পণ্য দেয়া হচ্ছে। টিসিবি এসব পণ্য ক্রয় করে স্বল্পমূল্যে বিক্রয় করে থাকে। দাম বাড়লে টিসিবিকেও অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে ক্রয় করতে হয়।

টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রয়ে সরকার বিশাল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশ ও দেশের মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী যেভাবে চিন্তা করেন তা বিশ্বে বিরল। নতুন বাজেটেও এক কোটি গরিব, দুস্থ অসহায় মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড চালু প্রসঙ্গে টিপু মুনশি জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশকে ডিজিটাল দেশে রূপান্তরিত করেছেন। যার সুফল দেশের মানুষ উপভোগ করছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে টিসিবির এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডকে স্মার্টকার্ডে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড চালুর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ত্রুটিমুক্ত একটি স্মাটকার্ড উপহার দেয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ জন্য একটু সময় বেশি লাগছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কাজের অনেকটাই শেষ হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

Leave a Comment