জাতিসংঘকে বোকা বানাল বাংলাদেশি মানবপাচার চক্র । যার খেসারত দিতে হয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসকে। পরে দূতাবাসের মামলায় সম্প্রতি দুদফায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রটির ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
জানা যায়, জালিয়াতির মাধ্যমে চক্রটি জাতিসংঘের কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে। পরে সেই পত্র দেখিয়ে মার্কিন দূতাবাসে আবেদন করে ভিসার জন্য। এভাবে তারা ২০ জনকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।
জাতিসংঘকে বোকা বানাল বাংলাদেশি মানবপাচার চক্র
জাল কাগজপত্র তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রটির মূলহোতা আবুল কাশেম শেখ। ২০০৮ সাল থেকে তিনি পাচারকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত।

শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, ইউরোপের অকে দেশে এভাবে তিনি লোক পাঠিয়েছেন। তাদের প্রতারণার শিকার প্রায় ১০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী। আবুল কাশেমকে তার আরও দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল আরও চারজনকে।
অভিযোগ সূত্রে ডিবি জানিয়েছে, জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইকোসকের (অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ) একটি কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য কথক একাডেমি নামে একটি এনজিও আবেদন করে। আবেদন গ্রহণ করে ইকোসক আমন্ত্রণপত্র পাঠায়। সেই আমন্ত্রণপত্রসহ ৮ জনের একটি প্রতিনিধিদলের জন্য ভিসার আবেদন করা হয় ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে। দূতাবাসও জাতিসংঘের আমন্ত্রণপত্র দেখে ভিসা দিয়ে দেয়।
সুলতান মাহমুদ নামে একজন সাবেক অতিরিক্ত সচিবের সিল-স্বাক্ষর নকল করে তারা ইমেইল করেছিল জাতিসংঘে। অবসরে যাওয়া ওই সচিব জানান, তিনি এসবের কিছুই জানতেন না।
সময় সংবাদকে তিনি বলেন, এসবের আমি কিছুই জানি না। পরে ওয়েবসাইটে গিয়ে কিছু কিছু কাগজপত্র দেখলাম। আমার নামের বানানও ঠিক নেই; স্বাক্ষর ঠিক নেই। এ ছাড়া আমার ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে অনেক আগের।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, নামসর্বস্ব একটা এনজিও আড়াল করে প্রত্যেকের কাছ থেকে আবুল কাশেম ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়ে তার নামে আমন্ত্রণপত্র আনেন। পরে মার্কিন দূতাবাসে জমা দেন। এ রকম করে সে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। পরে সুবিধাভোগীরা যাওয়ার পর আর বাংলাদেশে ফিরে আসে না।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রে না, জার্মান ও জাপানের উন্নত দেশগুলোতে সে এ কাজটা করে থাকে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে ডিবি সাইবার নর্থ তদন্ত করে। এরপর অভিযোগ দায়েরের সময় ৪ জন এবং পরে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা স্বীকার করেছেন যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য জাতিসংঘ সদর দফতরের কাছে আগ্রহ দেখিয়ে আমন্ত্রণপত্র চাইতেন। এই আমন্ত্রণপত্র নিয়ে মার্কিন দূতাবাস ভিসা আবেদন করা হতো।