বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় নকল পোশাক রপ্তানি!

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় নকল পোশাক রপ্তানি

ব্যাখ্যা চেয়েছে ইউএসটিআর, তদন্ত চলছে

এম মনিরুল আলম
জিলাইভ২৪.কম

বাংলাদেশ থেকে ইউএসএ (ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা)-তে নকল পোশাক রপ্তানীর পরিমান বাড়ছে।

পূর্বের বছরের তুলনায় ২০২২ সালে এর পরিমান প্রায় ৫০ ভাগ বেড়েছে বলে অভিযোগ করে এএএফএ বা আমেরিকান ফ্যাশন ও ফুটওয়্যার এসোসিয়েশন ও ইউনিফ্যাব বা ইউনিয়ন ডেস ফ্যাবরিক্যান্ট।

এ অভিযোগ এমন এক সময়ে উথাপিত হলো যখন বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানীতে আমেরিকায় শীর্ষ স্থানে চলে এসেছে।

এ গুরুতর অভিযোগ তদন্তে নেমেছে ইউএসটিআর বা ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্ন্টেটিভ অফিস। একইসাথে ইউএসটিআর বাংলাদেশকে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

গত ১০ ফেব্রুয়ারী বানিজ্য মন্ত্রণালয় এ চিঠি পায়।
ইতোমধ্যে, রপ্তানীকারকদের সাথে আলোচনা করে ইউএসটিআর কে জবাবও দিয়েছে বাংলাদেশ।

জবাবে বাংলাদেশ জানায়, নকল পোশাক রপ্তানি করছে সংঘবদ্ধ চক্র। এ চক্র দু’দেশেই সক্রিয়।

বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের ট্রেড সাপোর্ট মেজারস উইং এর দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো: হাফিজুর রহমান জিলাইভ২৪.কম কে বলেন, এই চক্রকে রুখতে দুই দেশেরই কাস্টমস পয়েন্টে নজরদারী বাড়াতে হবে। এরপর রপ্তানীকারক ও আমদানীকারক খুঁজে বের করে ব্যবস্হা নিতে হবে।

রহমান বলেন, যারা প্রকৃত পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানীকারক তারা এমনকাজ করে না। সাময়িক ফায়দা লুটতে এমন গর্হিত কাজ করছে সক্রিয় চক্র।

তিনি আরও বলেন, এ চক্রের হাত থেকে প্রকৃত রপ্তানীকারককে রক্ষায় ইনটেলেকচুয়্যাল প্রোপার্টি বা আইপি রাইটস পুরো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ও রপ্তানীকারকরা একসাথে কাজ করছে।

ইউএসটিআর এর কাছে এএএফএ তার অভিযোগে বলেছে, বাংলাদেশ থেকে তাদের আমদানী করা পন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্রির জন্য পাঠালে মোট ১ লক্ষ ৭৫ হাজার (১৭৫,০০০) আইটেম নকল পাওয়া যায়। প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ১৭ টি অভিযানে এসব নকল পোশাকের চালান আটক করা হয়। এর মধ্যে ইউকে, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন রয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফাকচারার্স ও এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন বা বিকেএমইএ এর নির্বাহী সভাপতি এম এ হাতেম বলেন, একজন প্রকৃত রপ্তানীকারক তার ব্যবসার স্বার্থেই চাইবে না এমন কাজ করতে।

তিনি বলেন, শিপমেন্ট এর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে তাড়াহুড়া করে সাব-কন্ট্রাক্ট বা তাদের নিযুক্ত অন্য কারও উৎপাদিত পন্য পর্যাপ্ত চেকিং না করার কারনে এমন হতে পারে।

এদিকে ইউএসটিআর চিঠিতে এএএফএ ও ইউনিফ্যাব এর অভিযোগের ভিত্তিতে নকল পন্য উৎপাদন ও রপ্তানী প্রতিরোধে আর্টিকেল ৩০১ এ উল্লেখিত আইপি সংরক্ষণ আইনের রিভিও শুরু করার কথা বাংলাদেশকে জানায়। একইসাথে, আইপি সম্পর্কিত আন্তজাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে এর সঠিক প্রয়োগে বাংলাদেশকে আরও যত্নশীল হতে পরামর্শ দিয়েছে।

Leave a Comment