সরকারের ত্রাণ ও দুযোগ মন্ত্রণালয় গোপাল-গঞ্জ জেলার ৫ উপজেলার ১৬৩ টি গীর্জায় বড়দিন উদযাপনে এ চাল বরাদ্দ করেছে। বড়দিনে গীর্জায় প্রার্থনায় অংশ গ্রহণকারীদের আহারসহ অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে ওই মন্ত্রণালয় গীর্জা প্রতি ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে।
গোপাল-গঞ্জের এনডিসি এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা ত্রাণ ওপুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোপাল-গঞ্জ সদর উপজেলার ২৪টি গীর্জার জন্য ১২ টন, কাশিয়ানী উপজেলার ৭টি গীর্জার জন্য ৩.৫ টন, কোটালীপাড়ার ৯৪টি গীর্জার জন্য ৪৭ টন, মুকসুদপুরের ৩৩টি গীর্জার জন্য ১৬.৫ টন ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৫টি গীর্জার জন্য ২.৫ টন চাল সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ত্রাণ ও দুযোগ মন্ত্রণালয়। ইতেমধ্যে আমাদের কাছে মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দের কাগজ এসে পৌঁছেছে ।
এ সংক্রান্ত ফাইল জেলা প্রশাসকের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা দ্রুত গীর্জার তালিকাসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে এ তালিকা প্রেরণ করব। তারপর তারা এগুলো গীর্জা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বা সম্পাদকের কাছে ছাড় করবেন।
কাশিয়ানী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মিরান হোসেন মিয়া বলেন, আমরা বরাদ্দপত্র পাওয়া মাত্রই গীর্জার অনুকূলে চাল ছাড় করতে পারব। ইতিমধ্যে আমরা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছি।
করা হয়েছে আলোকসজ্জা। বড়দিনকে সামনে রেখে চলছে প্রাক্ বড়দিন উৎসব। এছাড়া বিভিন্ন মন্ডলীর পক্ষ থেকে ১৬ ডিসেম্বর থেকে বের করা হচ্ছে নগর কীর্ত্তণ। খ্রিষ্টান বাড়িতে ক্রিসমাসট্রি সাজানো হয়েছে। টানোনো হয়েছে বড়দিনের তারা। খ্রিষ্টান বাড়ি ও গীর্জায় এখন সাজসাজ রব।
বিরাজ করছে উৎসব মুখর পরিবেশ। সরকার প্রতিটি গীর্জায় ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এ চাল দিয়ে বড়দিনের প্রর্থনায় অংশ নেওয়াদের প্রীতি ভোজের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের এ সহায়তার কারণে আমাদের উৎসব আরো বর্ণিল হয়ে উঠবে। আমরা মনেকরি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার সরকার আমাদের বড়দিনের উৎসবকে আরো মুখরিত করতেই এ সহায়তা করেছেন। এ জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
গোপাল-গঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বানিয়ারচর ক্যাথলিক গীর্জার ফাদার ডেভিড ঘরামী বলেন, যীশুখ্রিষ্টের জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বর আমাদের কাছে একটি মহাপবিত্র দিন। ২৪ ডিসেম্বর রাত ৯ টা থেকে বড় দিনের প্রার্থনা শুরু হবে। চলবে রাত ১টা পর্যন্ত। ২৫ ডিসেম্বর সকাল ৯ টায় প্রার্থনা শুরু হবে। এদিন দুপুরে প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হবে।
এতে ১ হাজার ২০০ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেবে। বিকেলে সুধীজনের সাথে বড় দিনের মহিমা ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হবে। বড়দিনের অনুষ্ঠানমালা সফল করতে মহড়া চলছে। এতে ভক্তরা অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া বড়দিনকে সমানে রেখে প্রভাতী কীর্ত্তণ হচ্ছে। অনেক গীর্জায় প্রাক্ বড়দিন উৎসব চলছে।
গোপাল-গঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, গোপাল-গঞ্জ সরকার প্রধান জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ জেলা। এ জেলায় ১৬৩টি গীর্জা রয়েছে। আমি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবাইকে বড় দিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। বড়দিনের উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন করতে আমাদের সরকার খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। বড়দিনের উৎসব বর্ণিলভাবে উদযাপনে জেলা আওয়ামী লীগ সবসময় তাদের পাশে রয়েছে।