,

সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন (১৬ নভেম্বর ১৯৪৩ – ২৪ মার্চ ২০০৭) ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের একজন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি) যোগ দেন।

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা

সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন ১৯৪৩ সালের ১৬ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত মালদহ জেলার কুট্টিটোলা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ সোলায়মান। ১৯৬৩ সালে তাঁর পরিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের কালীতলা মহল্লায় স্থানান্তরিত হয় এবং পরবর্তীতে শহরের ইসলামপুর মহল্লায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

রাজনৈতিক জীবন

জাতীয় আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ভোলাহাট ও শিবগঞ্জ অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতা-উত্তরকালে তিনি মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ-ভাসানী) যোগ দেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি তৎকালীন নবাবগঞ্জ মহকুমা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক এবং ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)

১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করলে সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন দলে যোগ দেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)

রাজনৈতিক জীবনের শেষ ভাগে তিনি বিএনপি ত্যাগ করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি) যোগদান করেন।

সংসদীয় ও সরকারি দায়িত্ব

সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-ভোলাহাট-গোমস্তাপুর) সংসদীয় আসন থেকে মোট ৫ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ২য় জাতীয় সংসদ (১৯৭৯): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১ম বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ৫ম জাতীয় সংসদ (১৯৯১): বিএনপি প্রার্থী হিসেবে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬): বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ৭ম জাতীয় সংসদ (জুন ১৯৯৬): বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ৮ম জাতীয় সংসদ (২০০১): বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মন্ত্রিসভায় ভূমিকা

  • সেচ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়: ১৯৮১ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
  • শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: ১৯৮২ সালে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

অবকাঠামো ও শিক্ষাসংক্রান্ত কাজ

সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর উদ্যোগে গৃহীত এবং নির্মিত উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে:
  • গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা সেতু
  • রহনপুরের মকরমপুর সেতু
  • বংপুর থেকে আক্কেলপুর পর্যন্ত দ্বিমুখী (ডাবল লেন) সড়ক
  • রহনপুর থেকে ভোলাহাট সংযোগ সড়ক
তিনি এলাকায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার সাথে যুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
  • রহনপুর মহিলা কলেজ
  • ভোলাহাট মহিলা কলেজ
  • রাধাকান্ত বরেন্দ্র কলেজ
  • পি.এন. কলেজ
  • নাচোল মহিলা কলেজ

স্থানীয় পরিচিতি ও জীবনাবসান

স্থানীয় পর্যায়ে তিনি ‘মনজুর মাছি’ বা ‘মাছি মন্ত্রী’ নামে পরিচিত ছিলেন।
২০০৭ সালের ২৪ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নির্বাচনী ইতিহাস

নির্বাচনসংসদীয় আসনরাজনৈতিক দলফলাফল
১৯৭৯ (২য় জাতীয় সংসদ)চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)বিজয়ী
১৯৯১ (৫ম জাতীয় সংসদ)চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)বিজয়ী
১৯৯৬ (৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ)চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)বিজয়ী
১৯৯৬ (৭ম জাতীয় সংসদ)চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)বিজয়ী
২০০১ (৮ম জাতীয় সংসদ)চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)বিজয়ী
Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।