ক্যাপ্টেন (অব.) সুজাত আলী (১৯২৬ – এপ্রিল ২০০৭) ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনন্য সেনানি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ। তিনি সামরিক বাহিনীতে বীরত্বের স্বাক্ষর রাখার পাশাপাশি সংসদীয় রাজনীতিতে দেবিদ্বারের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
Table of Contents
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
সুজাত আলী ১৯২৬ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষা: তিনি ১৯৪২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তৎকালীন সময়ে উচ্চশিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিল।
সামরিক জীবন ও পদক
রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশের আগে তিনি দীর্ঘ সময় সামরিক বাহিনীতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন:
- রয়েল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স: ১৯৪৩ সালে তিনি রাজকীয় ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি পদাতিক বাহিনীতে (আর্মি) স্থানান্তরিত হন।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনী: দেশভাগের পর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তাঁর বীরত্বের জন্য ‘যুদ্ধ পদক’ এবং ‘পাকিস্তান পদক’ অর্জন করেছিলেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীরত্বগাথা
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মোহ ত্যাগ করে দেশমাতৃকার টানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন:
- প্রশিক্ষক ও সংগঠক: তিনি ভারতের ত্রিপুরার পালাতানা মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবিরের নেতৃত্ব দেন। তাঁর অধীনে হাজার হাজার তরুণ মুক্তিযোদ্ধা সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
- বিজয় কেতন উড্ডয়ন: ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর অগ্রযাত্রার সময় তিনি ব্যক্তিগত সাহসিকতায় কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন মুক্ত এলাকায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়েছিলেন।
রাজনৈতিক ও সংসদীয় জীবন
সুজাত আলী দুইবার গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয়লাভ করেন:
- ১৯৭০-এর নির্বাচন: তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের (MNA) সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭৩-এর নির্বাচন: দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সমাজসেবা ও শিক্ষা বিস্তার
তিনি দেবিদ্বারে শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নামানুসারেই দেবিদ্বারের স্বনামধন্য ‘সুজাত আলী সরকারি কলেজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা এই অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
মৃত্যু ও শেষ বিদায়
এই মহানায়ক ২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে ৮১ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাঁর প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে তাঁকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
একনজরে ক্যাপ্টেন (অব.) সুজাত আলী
| বিষয় | তথ্য |
| জন্ম | ১৯২৬, দেবিদ্বার, কুমিল্লা |
| শিক্ষা | বিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৪২) |
| সামরিক পদ | ক্যাপ্টেন (অবসরপ্রাপ্ত) |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| নির্বাচিত আসন | কুমিল্লা-৪ (১৯৭৩) |
| স্মৃতিস্তম্ভ | সুজাত আলী সরকারি কলেজ, দেবিদ্বার |
| মৃত্যু | এপ্রিল ২০০৭, টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র |