সুজাত আলী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

সুজাত আলী (জন্ম: ১৯২৬ – মৃত্যু: ২০০৭) বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতিবিদ ও কুমিল্লা-৪ আসনের সাবেক সাংসদ। তিনি ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সুজাত আলী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

সুজাত আলী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

প্রাথমিক জীবন

ক্যাপ্টেন (অব:) সুজাত আলী ১৯২৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন

সুজাত ১৯৪৩ সালে রয়েল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সে কমিশন পেয়েছিলেন তবে পরে রয়েল ইন্ডিয়ান আর্মিতে স্থানান্তরিত হন। ভারত বিভাগের পরে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি যুদ্ধের পদক এবং পাকিস্তান পদক অর্জন করেন।

১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর পর তিনি মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। ত্রিপুরায় তিনি পালাতানা মুক্তি বাহিনী প্রশিক্ষণ শিবিরের নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর তিনি কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম সংসদে নির্বাচিত হন।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

মৃত্যু

সুজাত আলি এপ্রিল ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস রিচার্ডসন রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে ৮১ বছর বয়সে মারা যান। দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের ক্যাম্পাসের ভিতরে তাকে সমাহিত করা হয়।

 

সুজাত আলী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (বাংলা: বাংলাদেশ গণসংঘ) বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। এই রাজনৈতিক দলটির গোড়াপত্তন হয় ২৩ জুন ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। পরবর্তী কালে এর নাম ছিল নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। ১৯৭০ সাল থেকে এর নির্বাচনী প্রতীক নৌকা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে  ১৯৫৫ সালে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটানোর জন্য এর নাম “আওয়ামী লীগ” করা হয়।

ইতিহাস

প্রতিষ্ঠা

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যার সভাপতি ছিলেন টাঙ্গাইলের মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হক।

পরবর্তীকালে, ১৯৫৫ সালে মওলানা ভাসানীর উদ্যোগে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটির নাম থেকে পরে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়; নাম রাখা হয়: ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’।

 

সুজাত আলী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

আওয়ামী লীগের জন্মসূত্রের সঙ্গে ঢাকা ১৫০ নম্বর মোগলটুলিস্থ পূর্ববঙ্গ কর্মী শিবিরের উদ্যোগের সম্পর্ক অনস্বীকার্য। ২৩ জুনের সম্মেলনের আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শওকত আলী। তার উদ্যোগে ১৫০ নং মোগলটুলিস্থ শওকত আলীর বাসভবন এবং কর্মী শিবির অফিসকে ঘিরে বেশ কয়েক মাসের প্রস্তুতিমূলক তৎপরতার পর ২৩ জুনের কর্মী সম্মেলনে দলের ঘোষণা দেয়া হয়।

শওকত আলীর অনুরোধে কলকাতা থেকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একটি মামলা পরিচালনার কাজে ঢাকায় এলে তিনি শওকত আলীকে মুসলিম লীগ ছেড়ে ভিন্ন একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। শওকত আলী এ পরামর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পূর্ববঙ্গ কর্মী শিবিরের নেতৃবৃন্দকে নতুন সংগঠন গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেন। এসময় কর্মী শিবিরের প্রধান নেতা ছিলেন শামসুল হক।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment