শামসুদ্দিন আহমেদ এছাক (১ সেপ্টেম্বর ১৯৪১–২৭ মার্চ ২০০৫) যিনি শামসু নামেও পরিচিত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিবিদ, শ্রমিক নেতা, গীতিকবি এবং নরসিংদী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। ‘শেষ উপহার’ চলচ্চিত্রে তার কথা ও সুরে ‘চিরদিন তোমাকে ভালোবেসে যাব’ গানের জন্য জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন।
Table of Contents
শামসুদ্দিন আহমেদ এছাক । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
সামসুদ্দীন আহমেদ এছাক ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪১ সালে নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোল্লা মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, মাতা নূর খাতুন বেগম। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। তিনি মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
সামসুদ্দীন আহমেদ এছাক নরসিংদী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন। তার শতাধিক গান রেডিও-টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। মঞ্চায়িত হয়েছে ১৫টির বেশি নাটক।
১৪ বছর বয়সে তিনি পিতাকে হারান। পিতা মোল্লা মোসলেহ উদ্দিন এর যথেষ্ট সম্পত্তি/ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি জীবনের শুরুতে নরসিংদীর জবা টেক্সটাইল মিলে সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কর্মরত হন। কারণ তিনি পিতার সম্পদে জীবন উপভোগ করায় বিশ্বাসী ছিলেন না। এরপর এক সময় তিনি শ্রমিকদের সাথে সুসম্পর্ক আর নীতিগতভাবে অনড় থাকার কারনে পরিনত হন শ্রমিকনেতা সামসু ভাইয়ে।

১৯৬৮ সালে শ্রমিক নেতা হিসেবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৯ সালে নরসিংদীতে আইয়ূববিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন এবং ১৯৭১সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭৩ সালে নরসিংদী পৌরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান ও ১৯৮৪ ও ১৯৮৯ সালে পরপর দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
১৯৭৯ সালে তিনি প্রথমে ইউনাইটেড পিপলস পার্টিতে (ইউপিপি) যোগদিয়ে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে পরের বছর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন।
বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি নরসিংদী-১ (নরসিংদী সদর) আসন থেকে ১৯৯১, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, জুন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরপর চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাক তার এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন আরশিনগর উদ্যান ও মিনি চিড়িয়াখানা। সাপ্তাহিক ‘আরশীতে মুখ’ নামের একটি পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবন
সামসুদ্দীন আহমেদ এছাক তার ব্যক্তি জীবনে আনোয়ারা বেগম, ইয়াসমিন বেগম এবং নরসিংদী জেলা বিএনপি সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রোকেয়া আহমেদ লাকীকে সহ তিনটি বিয়ে করেছিলেন এবং আটজন ছেলে সন্তান ও চারজন মেয়ে সন্তান সহ মোট ১২জন সন্তানের পিতা ছিলেন তিনি।

মৃত্যু
সামসুদ্দীন আহমেদ এছাক ২৭ মার্চ ২০০৫ সালে ঢাকার কমফোর্ট হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
আরও দেখুনঃ