বাদল রশীদ (১৯২৯–২৩ জুন ১৯৯৩) বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক যিনি তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য ও তৎকালীন কুষ্টিয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
Table of Contents
বাদল রশীদ । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রাথমিক জীবন
বাদল রশীদ ১৯২৯ সালে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার রামদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত রুস্তম আলী বিশ্বাস ছিলেন তৎকালীন কোলকাতা শহরের ব্যবসায়ী। ১৯৫২ সালে বার-এ্যাট-ল পড়তে লন্ড গিয়ে ১৯৬৩ সালে তিনি কিংস কলেজ লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারী পাস করেন।
রাজনৈতিক জীবন
বাদল -রশীদ ১৯ এপ্রিল ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষকলীগের প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ছিল। কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি। সাপ্তাহিক কৃষক নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন তিনি। ১৯৭০ সালে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হয়েছিলেন।
১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন। প্রবাসী সরকারের তিনি ছিলেন পলিটিক্যাল লিয়াজো অফিসার ও তাজউদ্দীন আহমদের ব্যক্তিগত সহকারী। তার অফিস ছিলো কলিকাতা ৫১ নম্বর প্রিন্সেস স্ট্রীট। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন কুষ্টিয়া-৬ আসন থেকে সংসদ -সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে আলমডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
মৃত্যু
বাদল রশীদ ২৩ জুন ১৯৯৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

সংসদ- সদস্য
সংসদ -সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ -সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ- সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ -সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ -সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ -সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ -সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ -সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ -সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ -সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন।
দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ -সদস্য হন। সংসদ -সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ- সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ
- কপ-২৭ : পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনে দুর্যোগ ক্ষতি মেটাতে পৃথক বরাদ্দের দাবি তথ্যমন্ত্রীর
- ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- জমির উদ্দিন সরকার | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ
- জনাব আলী উকিল | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ
- ব্লকবাস্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে পুনরুজ্জীবিত পাকিস্তান ও ধারাবাহিক ফর্মে থাকা ইংল্যান্ড