সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক লোকমান হোসেন জয় ও সদস্যসচিব ইকরাম মাহমুদ ফাহাদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
অব্যাহতি পাওয়া শহিদুল ইসলাম সাহেদ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তবে হাসপাতালে হামলার অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে। এর আগে মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সাহেদ ও জুয়েলের মধ্যে বিরোধ এবং মারামারির ঘটনা ঘটে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গেছে। ওই ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে যান জুয়েল।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুয়েল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ সময় সাহেদ তাঁর অনুসারীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে জুয়েল মারধর থেকে বাঁচতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানেও তাঁকে রেহাই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জরুরি বিভাগের কক্ষের ভেতরে চেয়ার দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে তাঁকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে এক ব্যক্তিকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করা এবং মারধর করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। তবে ভিডিওতে দেখা ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করার তথ্য পাওয়া যায়নি।
আহত জুয়েল হোসেন নিরব লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। মারধরের ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের মতো চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের সহিংসতার অভিযোগ রোগী, স্বজন ও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জরুরি বিভাগে সাধারণত অসুস্থ ও আহত ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিতে আসেন। এমন স্থানে সংঘর্ষ বা হামলার ঘটনা ঘটলে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অন্য রোগী ও তাঁদের স্বজনেরাও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম সাহেদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁর পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা ছাত্রদল নেতা হাসিবুর রহমান অভি জানান, সাহেদকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে সাহেদের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।
তবে দলীয় অব্যাহতির সিদ্ধান্তের বাইরে ঘটনাটি নিয়ে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত, হাসপাতালে হামলার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আহত জুয়েলের চিকিৎসা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।








