,

বন্দরে অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৪

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের চালকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে বন্দর খেয়াঘাটসংলগ্ন অটোরিকশা স্ট্যান্ডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৪ জন অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।

ঘটনার পর বন্দর-নবীগঞ্জ ও বন্দর-চৌধুরীবাড়ি রুটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই দুই রুটে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চালকেরা বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও অটোরিকশাচালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে বন্দর খেয়াঘাট এলাকায় বন্দর-নবীগঞ্জ রুটের চালকেরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাত্রী তুলছিলেন। এ সময় স্থানীয় অজিতের নেতৃত্বে অপর পক্ষের কয়েকজন চালক সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের যাত্রী তুলতে বাধা দেন। ওই স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী না তোলার জন্যও তাঁদের নিষেধ করা হয়।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা উত্তেজনার সৃষ্টি করে এবং পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় দুই পক্ষের চালকদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৪ জন আহত হন বলে জানা গেছে।

আহত চালক মো. জুনায়েদ বলেন, সকালে তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী খেয়াঘাট এলাকা থেকে যাত্রী তুলছিলেন। এ সময় কয়েকজন এসে তাঁদের বাধা দেন। বাধা উপেক্ষা করে যাত্রী তোলা অব্যাহত রাখলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মো. জুনায়েদ (২৫), শাহিদুল ইসলাম শাহিন (৪০), সাগর (৩০), পাপ্পু (৩০), নাজমুল (২২), লিংকন (৩৩), মো. বিল্লাল হোসেন (২৩), সিয়াম (১৯), আজিম (৩৫), রুবেল (৪৮), আলী (৪৫), সোহাগ (২৫), ইয়াসিন (২৮) এবং মাকসুদা (৩৫)। তাঁদের মধ্যে নারী মাকসুদাও রয়েছেন। তবে আহতদের শারীরিক অবস্থা এবং তাঁদের চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষের পর বন্দর-নবীগঞ্জ ও বন্দর-চৌধুরীবাড়ি রুটে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় যাত্রী পরিবহনে বিঘ্ন ঘটে। এসব রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষকে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। তবে কতক্ষণ এসব রুটে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় পর্যায়ে অটোরিকশার স্ট্যান্ডে যাত্রী তোলা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা চালকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণ হতে পারে। এ ধরনের বিরোধের ফলে শুধু সংশ্লিষ্ট চালকেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, ব্যাহত হয় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতও। বন্দরের এ ঘটনায় স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠলেও কার দাবি কতটা যৌক্তিক, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। ভুক্তভোগী অটোরিকশাচালকেরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানানো হলেও অটোরিকশা চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ এবং দুই পক্ষের বিরোধের প্রকৃত কারণ নির্ধারণের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।