অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম (২৯) গাজীপুর সদর উপজেলার বিকেবাড়ি সিকদার মার্কেট এলাকায় অবস্থিত মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদরাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মো. শরীফ মিয়া (৩৫), মো. সেলিম মিয়া (৫৫), রহিমা খাতুন (৪০) ও মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা গাজীপুরের বানিয়ার চালা ও পিরোজআলী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর থানার চরবওলা এলাকায়।
প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর হয়রানির অভিযোগ
ছাত্রীর বাবার করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই ছাত্রী মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। এ সময় মাদরাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে ছাত্রীটি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
এরপর থেকে আরিফুল ইসলাম তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
বিষয়টি ছাত্রীটি পরিবারের সদস্যদের জানালে তাঁরা অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁকে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকতে বলেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ায় আরিফুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
মাদরাসায় যাওয়ার পর অপহরণের অভিযোগ
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর সকালে ওই ছাত্রী মাদরাসায় যাওয়ার পর আরিফুল ইসলাম তাঁর ভাই মো. শরীফ মিয়া, বাবা মো. সেলিম মিয়া, মা রহিমা খাতুন এবং মো. দেলোয়ার হোসেনের সহযোগিতায় তাকে অপহরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে পরিবারের সদস্যরা মেয়েটিকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু তাঁর সন্ধান না পেয়ে ছাত্রীর বাবা পুলিশের শরণাপন্ন হন। এ ঘটনায় রোববার রাতে তিনি জয়দেবপুর থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ছাড়াও তাঁর পরিবারের তিন সদস্য এবং মো. দেলোয়ার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ছাত্রী উদ্ধার, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, মাদরাসার ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা জোরজবরদস্তির অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কারা জড়িত, তা নির্ধারণের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








