প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন এই তিন ফুটবলার। তবে বাজির দর অনুযায়ী, ইয়ামাল ও এমবাপ্পের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন কেইন। যদিও বাজির বাজারের এই হিসাব পুরস্কারের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে না। বিজয়ী নির্বাচন করবেন নির্ধারিত ভোটাররা।
গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন ইয়ামাল। লা লিগায় ১৬ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ১১টি গোল করিয়েছেন তিনি। তাঁর নৈপুণ্যে স্পেনের শীর্ষ লিগের শিরোপা ধরে রাখে বার্সেলোনা। স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের ক্ষেত্রেও দলের সাফল্যে অবদান ছিল এই তরুণ উইঙ্গারের।
এসব পারফরম্যান্সের কারণে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ইয়ামালকে এগিয়ে রাখা হচ্ছিল। তাঁর বয়স, ধারাবাহিকতা এবং বড় ম্যাচে প্রভাব রাখার সামর্থ্যও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। তবে পুরস্কারের দৌড়ে শেষ মুহূর্তে বাজির দর পরিবর্তিত হওয়ায় তাঁর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাজির হিসাবে কেইনের সঙ্গে ব্যবধান বাড়ছে ইয়ামালের
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়ামালের ব্যালন ডি’অর জয়ের পক্ষে বাজির দর ৩.২৫ থেকে বেড়ে ৬.০০ হয়েছে। সাধারণত বাজির দর বেড়ে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগীর জয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে বাজারের প্রত্যাশা কমেছে বলে বোঝানো হয়। তবে এই পরিবর্তনকে ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায় না।
অন্যদিকে, কেইনের পক্ষে বাজির গড় দর ১.৩৫। এই হিসাব তাঁকে প্রতিযোগিতার স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে তুলে ধরছে। বাজির বাজারে কম দর সাধারণত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে বিবেচিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে কেইনের গোল করার দক্ষতা তাঁর পক্ষে বড় যুক্তি। প্রতিবেদনের দাবি, গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছেন ইংল্যান্ডের এই স্ট্রাইকার। এমন গোলসংখ্যা তাঁকে ব্যক্তিগত পুরস্কারের আলোচনায় শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
তবে ব্যালন ডি’অরের মতো পুরস্কারে শুধু গোলের সংখ্যা বিবেচনা করা হয় না। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের সাফল্য, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবদান এবং পুরো মৌসুমে খেলোয়াড়ের প্রভাবও মূল্যায়নের অংশ হতে পারে। ফলে কেইনের গোলসংখ্যা তাঁকে এগিয়ে রাখলেও চূড়ান্ত ফলের জন্য ভোটারদের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ।
‘১০০ মার্কা’ পুরস্কারে কেইনের জয়
কেইনের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ার পেছনে তাঁর সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত পুরস্কারজয়ও ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘১০০ মার্কা’ পুরস্কারে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, সাবেক ফুটবলার ও কোচদের নিয়ে গঠিত বিচারক প্যানেলের ভোটে শীর্ষস্থান অর্জন করেন বায়ার্নের এই স্ট্রাইকার।
তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৬২ পয়েন্ট। মাত্র ২৫ পয়েন্ট কম পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন ইয়ামাল, যাঁর সংগ্রহ ৩ হাজার ৯৩৭ পয়েন্ট। তৃতীয় স্থানে থাকা এমবাপ্পের পয়েন্ট ৩ হাজার ৪৪০।
এই ব্যবধান দেখায়, সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নে কেইন ও ইয়ামালের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বেশ কাছাকাছি। অন্যদিকে, এমবাপ্পেও আলোচনার বাইরে নন। তবে একটি পুরস্কারের ভোটে এগিয়ে থাকা মানেই ব্যালন ডি’অরেও একই ফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পুরস্কারগুলোর বিচারপদ্ধতি ও ভোটারদের মূল্যায়ন এক না হলে ফলও ভিন্ন হতে পারে।
ইয়ামালের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ
ইয়ামালের বয়সও এবারের ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি পুরস্কারটি জিতলে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ীদের তালিকায় নতুন রেকর্ড গড়ার সুযোগ পাবেন। প্রতিবেদনে তাঁকে ১৯ বছর বয়সী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে সর্বকনিষ্ঠ ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হিসেবে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ১৯৯৭ সালে ২১ বছর বয়সে এই পুরস্কার জিতেছিলেন। ইয়ামাল পুরস্কারটি পেলে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির স্থাপন করতে পারেন।
বার্সেলোনার হয়ে ইয়ামালের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তরুণ তারকায় পরিণত করেছে। অন্যদিকে, কেইনের অভিজ্ঞতা, গোল করার সামর্থ্য এবং বায়ার্নের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স তাঁকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে। এমবাপ্পেও নিজের পারফরম্যান্সের কারণে এই লড়াইয়ে রয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কেইনকে ঘিরে প্রত্যাশা বাড়লেও ইয়ামালের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বাজির দর কেবল বাজারের ধারণা তুলে ধরে; বিজয়ী নির্ধারণ করে না। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মূল্যায়নই ঠিক করবে, এবারের পুরস্কার কার হাতে উঠবে।









