পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর চারটি থানার আওতাধীন এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে অপরাধীদের তৎপরতা কমানোর লক্ষ্যেই এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযানে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সোয়াট, এসআরবি, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও ডগ স্কোয়াডের সদস্যরা অংশ নেন। কয়েকশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পাশাপাশি অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন সদস্যরা।
পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চার এলাকায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন পল্লবী থানার আওতাধীন এলাকার বাসিন্দা ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা। সেখানে ২০২ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরে ৫৯ জন, আদাবরে ৪৫ জন এবং গেন্ডারিয়ায় ৩৮ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৪।
অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যের বিষয়ে বিস্তারিত পরিমাণ কিংবা সব সামগ্রীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা জানানো হয়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে এসব সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, মোহাম্মদপুর ও পল্লবী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। এসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
যাচাই-বাছাই শেষে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে, তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হবে। অন্যদিকে, যাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং উদ্ধার করা অস্ত্র ও মাদকের উৎস অনুসন্ধানও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের সবার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মামলার অবস্থা এবং উদ্ধার করা সামগ্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চার এলাকায় একযোগে পরিচালিত এ অভিযানের মাধ্যমে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান সামনে আরও চালানো হবে।









