এই জয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে টানা দ্বিতীয়বার স্বর্ণপদক জিতল ভারত। একই আসরে নারী ক্রিকেটেও স্বর্ণ জেতায় এবার নারী ও পুরুষ—দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দেশটি। নারী দল এর আগে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছিল।
ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই পাকিস্তানের বোলারদের ওপর চড়াও হন ওপেনার অভিষেক শর্মা। মাত্র ২৮ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ছিল তিনটি চার ও সাতটি ছক্কা। অভিষেকের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভারতের ইনিংসকে শুরুতেই বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যায়।
তবে ভারতের শুরুটা পুরোপুরি নির্বিঘ্ন ছিল না। বৈভব সূর্যবংশী ৯ বলে ১৫ রান করে ফেরেন, সাঞ্জু স্যামসনের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান। অভিষেকের বিদায়ের পর রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। ইশান কিষান ১৮ বলে ২০ এবং অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ২৪ বলে ২১ রান করেন। টানা কয়েক ওভারে বাউন্ডারি না পাওয়ায় পাকিস্তান ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর সুযোগ পায়।
শেষ দিকে অবশ্য সেই চাপ কাটিয়ে ওঠে ভারত। তিলক ভার্মা ও শিভাম দুবে দ্রুত রান তুলে ইনিংসে গতি ফেরান। দুবে ১৫ বলে ২৭ রান করেন, যেখানে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে আরও আগ্রাসী ছিলেন তিলক। মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও চারটি ছক্কা। শেষ দিকের এই ব্যাটিংয়ের সুবাদে ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে ২১১ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত।
২১২ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই বিপাকে পড়ে। মাত্র ৩৯ রানে তিন উইকেট হারায় তারা। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানোর ফলে বড় লক্ষ্য তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সাইম আয়ুব ও হাসান নেওয়াজের ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরার আশা তৈরি হয়।
চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে ৪৮ বলে ৮৭ রানের জুটি গড়েন। সাইম ২২ বলে ২৯ রান করে আউট হলেও হাসান নেওয়াজ লড়াই চালিয়ে যান। ২৪ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটার ৫১ বলে ৯৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও সাতটি ছক্কা। শেষ বল পর্যন্ত ব্যাট করে দলের জয়ের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু প্রয়োজনীয় রান ও বলের ব্যবধান শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের নাগালের বাইরে চলে যায়।
ভারতের বোলাররাও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের রান তাড়ায় বাধা তৈরি করেন। অক্ষর প্যাটেল ও ওয়াশিংটন সুন্দর দুটি করে উইকেট নেন। শিভাম দুবেও বল হাতে দুটি উইকেট শিকার করেন। পাকিস্তানের শেষ দিকের ব্যাটিং প্রতিরোধ সত্ত্বেও ভারতের বোলাররা চাপ ধরে রাখায় ১৯২ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস।
ফাইনালটি শুধু পদকের লড়াই ছিল না, ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেও বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছিল। ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রচলিত করমর্দমাও দেখা যায়নি। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। ফলে বহুজাতিক প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত ১৯ রানের জয় নিয়ে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করে ভারত। পাকিস্তান পায় রুপা। আর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬৩ রানে হারিয়ে ব্রোঞ্জপদক জেতে শ্রীলঙ্কা।
ভারতের জন্য এবারের এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তাই সাফল্যের পরিধি আরও বড়। নারী ও পুরুষ—দুই দলই স্বর্ণ জিতেছে। পুরুষ দলের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালের জয় সেই সাফল্যে যোগ করেছে আলাদা মাত্রা।









