,

অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে চোট, রাফিনিয়াকে নিয়ে শঙ্কায় বার্সেলোনা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় রাফিনিয়াকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বার্সেলোনা। ব্রাজিলের হয়ে ম্যাচটির প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান এই ফরোয়ার্ড। তবে বিরতির পর আর মাঠে ফেরেননি তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তার জায়গায় মাঠে নামেন এন্দ্রিক।

রাফিনিয়ার চোটের ধরন ও মাত্রা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে বার্সেলোনার পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তার অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ক্লাবটির জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চলতি মৌসুমের শুরুতে আক্রমণভাগে রাফিনিয়া ছিলেন দলের অন্যতম কার্যকর খেলোয়াড়।

আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হওয়ার আগেই রাফিনিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সতর্ক ছিল বার্সেলোনা। টানা ম্যাচ, আন্তর্জাতিক দায়িত্ব, দীর্ঘ ভ্রমণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের ঘাটতি একজন খেলোয়াড়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল ক্লাবটির। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে নিয়মিতভাবে আক্রমণভাগে দায়িত্ব পালন করা রাফিনিয়ার ক্ষেত্রে এই চাপ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি ছিল।

ব্রাজিলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পাশাপাশি দীর্ঘ ভ্রমণও তার শারীরিক অবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আগে থেকেই আলোচনা ছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ব্যস্ত সূচিতে খেলোয়াড়দের এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাতায়াত করতে হয়। ক্লাব ফুটবল ও জাতীয় দলের ম্যাচের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কম থাকলে পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ও সীমিত হয়ে পড়ে।

রাফিনিয়ার সাম্প্রতিক চোটের ইতিহাসও বার্সেলোনার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত মার্চে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে পেশিতে চোট পেয়ে ব্রাজিলের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়তে হয়েছিল তাকে। পরে বার্সেলোনায় ফিরে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

সর্বশেষ বিশ্বকাপে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচেও ডান উরুর পেছনের অংশে চোট পেয়েছিলেন রাফিনিয়া। সেই সমস্যার কারণে ব্রাজিলের পরবর্তী দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। পরীক্ষায় তার ডান উরুর পেশিতে চোট ধরা পড়েছিল। একই অংশে এর আগেও একাধিকবার সমস্যা হওয়ায় এবারও চোটের প্রকৃতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বার্সেলোনা।

চলতি মৌসুমে অবশ্য দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন রাফিনিয়া। আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাওয়ার আগে বার্সেলোনার হয়ে প্রথম আটটি অফিসিয়াল ম্যাচেই তিনি করেছেন ১৪ গোল। ফলে দলের আক্রমণভাগে তার উপস্থিতি শুধু সৃজনশীলতার জন্য নয়, গোল করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক বিরতির আগে বার্সেলোনার কোচ হ্যান্সি ফ্লিকও জাতীয় দলের দায়িত্বে খেলোয়াড়দের চলে যাওয়া নিয়ে শারীরিক ঝুঁকির কথা জানিয়েছিলেন। ক্লাব পর্যায়ে নিয়মিত অনুশীলন ও ম্যাচের পর জাতীয় দলের ব্যস্ততা শুরু হলে খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। একই সঙ্গে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফদের ওপর আস্থা রাখার কথাও জানিয়েছিলেন ফ্লিক।

এখন রাফিনিয়ার মেডিকেল পরীক্ষার ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আছে বার্সেলোনা। পরীক্ষায় গুরুতর কোনো চোট ধরা না পড়লে আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই অনুশীলনে ফিরতে পারেন তিনি। কিন্তু পেশিতে নতুন কোনো সমস্যা শনাক্ত হলে পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তার অনুপস্থিতির আশঙ্কা বাড়বে।

রাফিনিয়ার জন্যও তাই পরবর্তী কয়েকটি দিন গুরুত্বপূর্ণ। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই তার চোটের প্রকৃতি, মাঠের বাইরে থাকার সম্ভাব্য সময় এবং বার্সেলোনার হয়ে পরবর্তী ম্যাচে খেলার সুযোগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত ব্রাজিলের ম্যাচে বিরতির পর তাকে মাঠে না নামানোই বার্সেলোনার জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।