,

বন্দরে শিশুকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় মো. মনির হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মমিনুর ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মনির হোসেন বন্দর উপজেলার কুড়িপাড়া এলাকার প্রয়াত আফসার উদ্দিনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাসায় ১০ বছর বয়সী শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা এবং মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১২ মার্চ মনির হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

এরপর মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যায়। আদালতে মামলার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং পরিচয় গোপন রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের মামলায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যসহ আদালতে উপস্থাপিত অন্যান্য প্রমাণ বিবেচনায় নেওয়া হয়।

রায়ের ফলে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো। আদালতের দেওয়া সাজা অনুযায়ী মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলাটি ২০২২ সালে দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের মার্চে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এরপর আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলতে থাকে। মঙ্গলবার সেই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

রায়ে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনগতভাবে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।