ঝিনাইদহের মহেশপুরে অবৈধ ভিওআইপি কলিং ডিভাইসসহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের সরিষাঘাট এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। একই সময় বাড়িটি থেকে ভিওআইপি কলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা ডিভাইসগুলো জব্দ করা হয়।
আটক দুজন হলেন শ্যামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম (৫৪) এবং ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা শাহেব আলী (৩০)।
ঝিনাইদহ ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযানে জব্দ করা ডিভাইসগুলো বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামত পাওয়ার পর ডিভাইসগুলোর ধরন, ব্যবহার এবং সেগুলো ব্যবহারের বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের এই পদক্ষেপের সঙ্গে ভিওআইপি প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকানোর বিষয়টিও সরাসরি সম্পর্কিত। ভিওআইপি বা ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ভয়েস কল পরিচালনা করা যায়। বৈধ অনুমোদন ও নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সেবা পরিচালনা করা হলে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে। টেলিযোগাযোগ খাতে অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রম শনাক্ত ও প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
মহেশপুরের সরিষাঘাটে অভিযানের সময় ঠিক কী ধরনের ডিভাইস পাওয়া গেছে এবং সেগুলো কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা এখনো চূড়ান্তভাবে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে পরীক্ষার পর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জব্দ করা সরঞ্জাম পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ শুধু ডিভাইস জব্দের ভিত্তিতে এর ব্যবহার সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না; কারিগরি পরীক্ষার ফল এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ আরও তথ্য সংগ্রহ করছে। অভিযানের সময় জব্দ করা সরঞ্জামের সংখ্যা বা নির্দিষ্ট ধরন সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে ডিভাইসগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সম্ভাব্য ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হতে পারে।
এদিকে, আটক দুজনের রাজনৈতিক পরিচয় স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এলেও তাদের বিরুদ্ধে ভিওআইপি ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিওআইপি-সংক্রান্ত ঘটনায় প্রযুক্তিগত প্রমাণের গুরুত্ব রয়েছে। কোনো সরঞ্জাম কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি কার্যকর অবস্থায় ছিল কি না এবং সেটির মাধ্যমে অনুমোদনহীন টেলিযোগাযোগ সেবা পরিচালনা করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের জন্য জব্দ করা যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। মহেশপুরের ঘটনায়ও সেই প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে তদন্ত।









